
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে। রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
ঘটনাটি ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে, যেখানে একটি নারী শিক্ষার্থী স্থানীয় দারোয়ানের হাতে মারধরের শিকার হন। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ওই ছাত্রী রাতে তার ভাড়া করা ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে দারোয়ানের সঙ্গে তার তর্ক ও বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনা জানাজানি হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দারোয়ানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতে যান।
দারোয়ান পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এরপর সংঘর্ষ আরও তীব্র রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরও লোক জড়ো করেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার ফলে অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে।
উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিত রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে।
চবিতে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন নয়। তবে রাতের এ সংঘর্ষে নারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলা এবং তা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সাড়া এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও বারবার তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পরীক্ষা পুনরায় শুরুর ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে ভবিষ্যতে আরও কড়াকড়ি এবং সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচও