
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। গ্রাহকেরা শুধু কল নয়, অনলাইন ক্লাস, ব্যাংকিং, অফিসের কাজ—সবকিছুর জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন ফোরজি নেটওয়ার্কের ওপর। কিন্তু সেই নেটওয়ার্ক কতটা নির্ভরযোগ্য? সাম্প্রতিক ড্রাইভ টেস্টে পাওয়া তথ্য গ্রাহকদের হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিটিআরসি টাঙ্গাইল, বগুড়া ও গাইবান্ধার ৫৭৪ কিলোমিটার এলাকায় মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষা শেষে দেখা গেছে, অধিকাংশ জায়গায় ফোরজি কাভারেজ নেই, এমনকি কল সেটআপ সাফল্যের হারও মানদণ্ডের চেয়ে কম।
-
গ্রামীণফোন: দেশের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক হলেও ৫৮ শতাংশ এলাকায় ফোরজি কাভারেজ ছিল না। কল সাফল্য হার ৯৫.১৪% হলেও মানদণ্ড ছিল ৯৮%।
-
বাংলালিংক: ইন্টারনেট গতি সবচেয়ে ভালো পাওয়া গেছে (২৯ এমবিপিএস)। কিন্তু কাভারেজ ঘাটতি রয়ে গেছে ৪৯% এলাকায়।
-
রবি: কল সাফল্যের হার সবচেয়ে কম (৭৭.৩৭%)। কাভারেজ ঘাটতি ৪১% এলাকায়।
-
টেলিটক: সরকারি অপারেটর হয়েও কাভারেজ ঘাটতি সবচেয়ে বেশি—৭৭% এলাকায় ফোরজি পাওয়া যায়নি।
লাইসেন্স শর্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রতিটি উপজেলা, মহাসড়ক ও রেলপথে ফোরজি কাভারেজ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু কোনো অপারেটরই সেই শর্ত পূরণ করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।
বিটিআরসি কর্মকর্তারা মনে করেন, অপারেটরদের ব্যাখ্যা চাইতে হবে। প্রয়োজনে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত কাভারেজ ঘাটতি পূরণের জন্য নতুন বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন স্থাপন অপরিহার্য।
শহরের বাইরে যারা থাকেন, তাদের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অনেক গ্রাহক বলেন, “আমরা মাসে মাসে ফোরজির জন্য টাকা দিই, কিন্তু নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় টু-জি বা থ্রি-জির মতো।" ড্রাইভ টেস্টের তথ্য প্রমাণ করেছে—এই অভিযোগ অমূলক নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও ডিজিটাল সেবার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু ফোরজি নেটওয়ার্ক কাভারেজ যদি এভাবে সীমিত থাকে, তবে ৫জি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়বে।
বাংলাবার্তা/এমএইচও