ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের (এইচইউএফ) করদাতারা বছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে সময়ের শুরুতেই রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বিশেষ করছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অংশ হিসেবে ‘অর্থ আইন, ২০২৬’ উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য হলো করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দেওয়া এবং কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করা।
নতুন অর্থ আইন অনুযায়ী, পূর্ববর্তী করবর্ষের জন্য করদাতারা সাধারণভাবে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে এই ছয় মাসের সময়সীমার মধ্যেও রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা ও বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যারা ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করবেন, তারা বিশেষ কর প্রণোদনা বা করছাড় পাবেন। এ ক্ষেত্রে করদাতা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ কর রেয়াত হিসেবে পাবেন। অর্থাৎ দ্রুত রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে করদাতারা সরাসরি আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে কোনো ধরনের বিশেষ করছাড় পাওয়া যাবে না। তবে এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর, জরিমানা বা আর্থিক দণ্ডও দিতে হবে না। অর্থাৎ এটি স্বাভাবিক সময়সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং করদাতারা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
নতুন ব্যবস্থায় বিলম্বে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ধাপে ধাপে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত কর বা জরিমানা হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। ফলে করের পরিমাণ কম হলেও ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে।
আরও বেশি দেরি করলে জরিমানার পরিমাণও বাড়বে। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত কর হিসেবে দিতে হবে। অর্থাৎ সময় যত গড়াবে, আর্থিক দায়ও তত বাড়বে।
এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার একদিকে আগেভাগে রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের উৎসাহিত করতে চায়, অন্যদিকে দীর্ঘদিন রিটার্ন জমা না দেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে কর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে চায়। ফলে আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ‘আগে জমা দিলে করছাড়, পরে জমা দিলে জরিমানা’ নীতিই কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



