ছবি: সংগৃহীত
মিরপুরের গ্যালারিজুড়ে ছিল হলুদ ও সাদা জার্সির ছড়াছড়ি। দূর থেকে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন, বুঝি অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকে ভরে গেছে স্টেডিয়াম। কাছে গিয়ে বোঝা গেল, সাদা জার্সিগুলো আর্জেন্টিনার, হলুদগুলো ব্রাজিল ফুটবল দলের। প্রেস বক্সে মাঠের ক্রিকেটের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছিল ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে। তবু ফুটবলের উন্মাদনা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক কীর্তিকে আড়াল করতে পারেনি।
মঙ্গলবার ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর এবার এই সংস্করণে অসিদের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে স্বাগতিকরা জিতেছে পাঁচ উইকেটে, ৩৬ বল হাতে রেখেই। এটি বাংলাদেশের টানা চতুর্থ সিরিজ জয় এবং ঘরের মাঠে টানা পঞ্চম সিরিজ জয়। রোববার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ টাইগারদের সামনে।
জয়ের খুব কাছে গিয়ে একমুহূর্তের জন্য শঙ্কা জেগেছিল। নাথান এলিসের বাউন্সার মেহেদী হাসান মিরাজের মাথায় আঘাত হানে। কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও চিকিৎসা শেষে আবার ব্যাট হাতে নামেন তিনি। আর সেই মিরাজই পরে রাইলে মেরেডিথের ১৪৩ কিলোমিটার গতির শর্ট বল স্কয়ার লেগ দিয়ে উড়িয়ে মারেন দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। তাতে জয়ও নিশ্চিত। ম্যাচ শেষে অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়ককে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল।
তার আগে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। সৌম্য ৪২ এবং নাজমুল ৪২ রান করেন। পরে লিটন দাস দ্রুত ২১ রান যোগ করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মধ্যভাগে দায়িত্ব নেন তাওহিদ হৃদয়। ৫৫ বলে অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংসে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি।
শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ বলে ২২* রান করে জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের ইনিংসে ছিল ১৩ অতিরিক্ত রান। ৩৫ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে পাঁচ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জাভিয়ার বার্টলেট, রাইলি মেরেডিথ, ম্যাট রেনশ, ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যাডাম জাম্পা একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। ওয়ানডে ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটল মাত্র চতুর্থবার। তাসকিন আহমেদ প্রথম ওভারেই ফেরান ম্যাথু শর্টকে। টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন এই ওপেনার। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে। অ্যালেক্স ক্যারিকেও আউট করেন তিনি।
২২ ওভারে ছয় উইকেটে ৮১ রান থেকে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলেন মার্নাস লাবুশেন ও জাভিয়ার বার্টলেট। সপ্তম উইকেটে তারা যোগ করেন ১০৩ রান। এই জুটি ভেঙে টানা দুই উইকেট তুলে নেন তাসকিন। লাবুশেন ১৪ ইনিংস পর ফিফটি পান, আর বার্টলেট করেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। সফরকারীদের স্কোর ১৮৭/৮ হলেই বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হয় কাটেল ওভারে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও মোস্তাফিজ তিনটি করে উইকেট নেন। তানভির ইসলাম ফেরান জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিনকে। ম্যাচসেরা মোস্তাফিজ।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



