ছবি: সংগৃহীত
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে। ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যে উৎসে করের হার বিদ্যমান ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতেও কর-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে হেমোডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ব্লাড টিউবিং সেট আমদানিতে প্রযোজ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম করও পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাবও থাকতে পারে।
শিল্প ও প্রযুক্তি খাতেও করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডেটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে এবং জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে কর ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব থাকতে পারে। রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের ক্ষেত্রে করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ অনিবাসী করদাতাকে প্রদেয় অর্থের ওপর উৎসে কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। রি-ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে অনিবাসী করদাতাদের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) রাজস্ব ভাগাভাগি, লাইসেন্স ফি ও বিভিন্ন চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব থাকতে পারে। এ ছাড়া স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনতে এ খাতে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও আসতে পারে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



