ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন হিসেবে থানায় নিয়ে আসার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে ত্রুটির প্রমাণ পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, একটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই শফিক নাঈম হাসানকে থানায় নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, তথ্যটি থানার সেকেন্ড অফিসারের কাছ থেকে পাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে চোরাচালান-সংশ্লিষ্ট একটি চালান পরিবহনের সন্দেহের বিষয় উল্লেখ ছিল।
ওসি জানান, এ বিষয়ে তাকে আগাম অবহিত করা হয়নি। নাঈম হাসানকে থানায় আনার পর তিনি তাকে শনাক্ত করেন। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর দ্রুত তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।তিনি বলেন, ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ত্রুটির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে।আরিফুল ইসলাম আরও জানান, পরবর্তীতে নাঈম হাসানের সঙ্গে থাকা ব্যাগও তল্লাশি করা হয়েছে। তবে সেখানে কোনো ধরনের অবৈধ বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, নাঈম হাসানকে সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে চট্টগ্রামে নগরীর খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়া হয়। তিনি জানান, প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রাম ফেরার পর ফ্লাইট বিলম্বের কারণে দেরি হয়ে যায়। এরপর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে এবং একপর্যায়ে তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নাঈম আরও বলেন, ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালকে জানান। পরে তামিম সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলেন।
জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার হিসেবে এমন ঘটনার শিকার হয়ে হতাশা প্রকাশ করেন নাঈম হাসান। তিনি বলেন, তার সঙ্গে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। এ বিষয়ে নগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন এবং কোনো পুলিশ সদস্য দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’, এবং প্রাথমিকভাবে চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে সেই তথ্যের সত্যতা ও অভিযানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডিসি আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে কিছু ভুল-ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তদন্তে সেগুলো নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কাউকে মারধরের কোনো সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীকে কেন এবং কী কারণে থানায় নেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সংশ্লিষ্টরা যদি তাদের কর্মকাণ্ডের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



