ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দেড় মাসের মধ্যে অন্যতম বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে। প্রথমে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী রোববার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
এরপরই ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসতে শুরু করে। শুক্রবার (১২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে এবং ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা ধ্বংস করবে।
তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা প্রকাশিত একটি খসড়ায় ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে। খসড়ায় আরও দাবি করা হয়, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
ইরানের এই অবস্থান প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইরানের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি ইরানি পক্ষকে ‘অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন এবং দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি। তবে তিনি কোথাও চূড়ান্ত চুক্তির কথা উল্লেখ করেননি।
এদিকে পুরো আলোচনায় ইসরাইলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স-২৪-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামরিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করছিলেন। তবে পরে সম্ভাব্য সমঝোতার ঘোষণা আসার পর নেতানিয়াহু জানান, তাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের ঘোষিত ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি নয়’ অবস্থান থেকে বর্তমান আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে ইরানপন্থী বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা শুরু হওয়াটাই তেহরানের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রতিফলন।
তবে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক আদৌ স্বাক্ষরিত হবে কি না, কিংবা হলে তার শর্ত কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘চুক্তির এতটা কাছাকাছি আগে কখনও আসেনি’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন রোববারের সম্ভাব্য জেনেভা বৈঠকের দিকে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



