ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছর আগে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং মরদেহ কেটে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার নৃশংস মামলায় ঘাতক আবির আলীকে (২৩) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় সে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জালাল উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর পাশাপাশি লাশ টুকরো টুকরো করে প্রমাণ লোপাট ও গুম করার অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে ইপিজেড থানায় জিডি করে পরিবার। পরবর্তীতে ঘটনার তদন্তে নেমে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেশী আবির আলীকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আবির স্বীকার করে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিল সে। কিন্তু আয়াত চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশটি লুকিয়ে রেখে পরে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে আকমল আলী ঘাটের স্লুইচ গেট সংলগ্ন সাগরে ও সংলগ্ন নালায় ভাসিয়ে দেয়। পরবর্তীতে পিবিআই সাগরের পিট থেকে আয়াতের খণ্ডিত মাথা ও পায়ের অংশ বিশেষ উদ্ধার করেছিল।
বুধবার রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত আয়াতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



