ছবি: সংগৃহীত
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে আরও বলা হয়, গত অর্থবছরেও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এডিবির নতুন পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য কম।
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বিবিএসের সাময়িক হিসাবে উল্লেখ করা ৩ দশমিক ৭ শতাংশের চেয়ে বেশি। গত তিন অর্থবছর ধরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এর পেছনে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতি বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারজনিত চাপের কারণে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়েই থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার জরুরি।
মূল্যস্ফীতি কেন অন্যদের চেয়ে বেশি থাকবে
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব চলতি অর্থবছরেও বহাল থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে দাম বেড়েছে। আমদানিনির্ভর হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি, পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের দামে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় এবং সার উৎপাদন বা আমদানির খরচও বেড়েছে, যা খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্নে মালবাহী জাহাজের ভাড়া ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াও মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। ভারতে তা প্রায় ৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং নেপালে ৫ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে। এমনকি পাকিস্তানের সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হলেও তা বাংলাদেশের তুলনায় কিছুটা কম। মূলত অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং জ্বালানি দামের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরার সম্ভাবনা থাকায় সামগ্রিক মূল্যস্তর কমতে পারে। নেপালে কৃষিপণ্যের সরবরাহ উন্নত হওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। শ্রীলঙ্কায় আইএমএফ কর্মসূচির অধীনে জ্বালানি মূল্য সংস্কার ও ব্যয়-সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণের ফলে ২০২৭ সালে সেখানে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ২ শতাংশে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং নেপালের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে যেসব দেশ পঞ্জিকা বছর অনুসরণ করে, তাদের মধ্যে ভুটান ২০২৭ সালে ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কা ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। মালদ্বীপের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



