ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে হত্যার হুমকি, আত্মগোপনে জীবনযাপন এবং সর্বশেষ পারিবারিক বাড়িতে হামলার অভিযোগের পর অবশেষে জীবন রক্ষার্থে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, মুক্তচিন্তা, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখালেখির কারণে দীর্ঘদিন ধরে মৌলবাদী ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছিলেন। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন তিনি।
জানা গেছে, তরিকুল ইসলাম সর্বশেষ বহুল প্রচলিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিটি নিউজ ডট কম-এ কর্মরত ছিলেন। সাংবাদিকতা জীবনে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, সামাজিক অসঙ্গতি, মানবাধিকার এবং উগ্রবাদবিরোধী নানা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তিনি। তার দাবি, এসব লেখালেখির কারণেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ ও হুমকির মুখে ছিলেন।
তরিকুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল খুলনায় অবস্থানকালে আনুমানিক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, মুক্তমনা লেখক ও ব্লগারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারণে যে কোনো সময় তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে।
এই ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েন তিনি। পরদিন, ২২ এপ্রিল ২০২৬, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৩৮৯। জিডিতে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা কামনা করেন।
জিডি করার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে দাবি করেন তরিকুল ইসলাম। বরং নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন। তবে তাকে খুঁজে না পেয়ে ২০২৬ সালের ৫ মে সাতক্ষীরা জেলার সোনাবাড়ীয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার বাবা-মাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে তিনি জানান। পরিবারের সদস্যদের ওপর এই হামলার পর তিনি নিজের এবং স্বজনদের জীবন নিয়ে আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং দেশে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তরিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তার অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, "সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বারবার হুমকি, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছি। কিন্তু যখন আমার পরিবারের ওপর হামলা হলো এবং বাবা-মাকে গুরুতর আহত করা হলো, তখন বুঝতে পারলাম দেশে থাকলে আমার ও আমার পরিবারের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। বাধ্য হয়েই দেশ ছাড়তে হয়েছে।"
তিনি দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠন, সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতি তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলা, হত্যার হুমকি এবং দেশত্যাগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তরিকুল ইসলামের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



