ছবি: সংগৃহীত
ফজলুল হক মহিলা কলেজের প্রভাষক সমীর সিকদারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন, রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন কলেজের একাংশের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একই সঙ্গে তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়াহাব মিয়ার বিরুদ্ধেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক লিখিত প্রতিবাদলিপিতে অভিযোগ করা হয়, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সমীর সিকদার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন চালিয়েছেন। প্রতিবাদকারীদের দাবি, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন না করে গোপনে নিষিদ্ধ ও গণধিকৃত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন একটি জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু অভিযুক্ত প্রভাষকের কর্মকাণ্ডের কারণে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, সমীর সিকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়াহাব মিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই তিনি এখনো কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন বলে দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই কলেজে একটি নিরাপদ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো—
০১. শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভাষক সমীর সিকদারকে অবিলম্বে কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
০২. সমীর সিকদারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়াহাব মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
০৩. কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের নিপীড়ন, দলীয় প্রভাব বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের স্থান নেই। তারা দাবি করেন, কলেজ প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রভাষক সমীর সিকদার কিংবা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়াহাব মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত সমীর সিকদারকে একাধিকবার ফোন করেও তার কোনো বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



