ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হৃদয়বিদারকভাবে শেষ হলো থিবো কোর্তোয়ার এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে পায়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বেলজিয়ামের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে।
তখন স্কোরলাইন ছিল ১-১। ৭১ মিনিটে খেলা চালিয়ে যেতে না পারার ইঙ্গিত দেওয়ার পর চোখের পানি নিয়ে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া। এরপর বদলি গোলরক্ষক সিন লেমেন্স মিকেল মেরিনোর করা শেষ দিকের গোলটি হজম করে বসেন, ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে স্পেন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।
ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া জানান, গোল কিক নেওয়ার সময় প্রথম চোট অনুভব করেছিলেন তিনি, তবে খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটা গোল কিক নিয়েছিলাম আর তখন উরুতে অনেক ব্যথা অনুভব করি। কোচিং স্টাফকে জানিয়েছিলাম যে লম্বা গোল কিক নিতে গেলে ব্যথা লাগছে। তবে গোলপোস্টে থাকতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। শেষ পর্যন্ত কোচ আমাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, এতে কোনো সমস্যা নেই কারণ দলটাই সবার আগে।’
হাইড্রেশন ব্রেকের কিছুক্ষণ আগেই এই চোট পান রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক। পা চেপে ধরে মাঠেই চিকিৎসা নেন তিনি। এরপর তার জায়গায় নামেন সিন লেমেন্স। তার মাঠে নামাই মূলত হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকভাবে সামলাতে না পারায় ফিরতি বলে গোল করেন মেরিনো।
চোট পাওয়ার আগে অবশ্য দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন কোর্তোয়া। স্পেনকে আটকে রাখতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে একমাত্র গোলটি হজম করেন ৩০ মিনিটে, ফাবিয়ান রুইজের শট বাজেভাবে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যাওয়ায়। এছাড়া স্পেনের চাপের বিপক্ষে বল বিল্ডআপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি, ২৯টি পাসের মধ্যে ২২টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়া। স্পেনের বিপক্ষে এই কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল বিশ্বকাপে তার ২১তম ম্যাচ। এতে গোলরক্ষকদের মধ্যে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় এককভাবে দুই নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি। শীর্ষে আছেন শুধু জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ারই, যার ম্যাচসংখ্যা ২৩টি।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



