ছবি: সংগৃহীত
দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যাবসায়িক গ্রুপগুলোর উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
গত রবিবারও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
জটিলতা সমাধানে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা সরাসরি সলভ (সমাধান) করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা সমাধান করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লে সেটির প্রভাব যাতে পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতি সচল, কর্মসংস্থান তৈরি ও বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখছে শিল্পগোষ্ঠীগুলো।
তবে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বড় অনেক শিল্পগোষ্ঠীও আর্থিক সংকটে পড়েছে।
সহায়তার ক্ষেত্রে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান মুখপাত্র।
এসব উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয় বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এই সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা ও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই উদ্দেশ্য।
আব্দুল মোনেম সুগারকে এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ সুবিধার আওতায় আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের কারণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করা যাবে না। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে কোনো ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।
ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে তাঁরা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই বিধান আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টার। আব্দুল মোনেম লিমিটেডই আব্দুল মোনেম গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি এসব ঋণ বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের আবেদন করেছিল।
এরপর গত ৭ জুন শতভাগ নগদ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করা হয়। শোধনাগার কর্তৃপক্ষ আবেদনে উল্লেখ করে, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে। সময়মতো এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি দেশে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় আমদানি ব্যাহত হলে বাজারে চিনির সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে বিক্রয় চুক্তির আওতায় শোধনাগারটি আবুল খায়ের লিমিটেড পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চিনি ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



