ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিচালনা করে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনালটির দায়িত্ব নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ড্রাইডক এনসিটি পরিচালনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবে।
২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘকাল এনসিটি পরিচালনায় থাকা সাইফ পাওয়ারটেক এই দায়িত্ব ছাড়লেও তারা এখনও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী কাজ করবে বলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন জানিয়েছেন।
সরকারের নির্দেশনা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় অনুমোদনের ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নৌবাহিনীর অধীনে যাওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে সেবা গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও ঝটপট ও কার্যকর হবে।
চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যা নৌবাহিনী পরিচালিত, প্রধানত সামরিক জাহাজ মেরামতকাজ করে থাকলেও এর সম্প্রসারণ হিসেবে বন্দর সীমানার মধ্যেই অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি এবার নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে আইনি কারণে সরাসরি নৌবাহিনী নয়, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ড্রাইডকের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার ছয় মাসের জন্য চুক্তি করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকদের জানান, “টেকনিক্যাল কারণে সরাসরি নৌবাহিনী টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেনি, এজন্য তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ড্রাইডকের মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। আজকের দিনটিই সাইফ পাওয়ারটেক আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনালের দায়িত্ব হস্তান্তর করবে এবং এরপর থেকে ড্রাইডক এই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরে মোট চারটি কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে, যথা: চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (কনটেইনার ও বাল্ক-জিসিবি), এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। চলতি অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩২ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ কাজ এককভাবে এনসিটি পরিচালনা করেছে। তাই এনসিটির সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় নৌবাহিনীর নতুন দায়িত্বের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ২০০৭ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনায় থাকা সাইফ পাওয়ারটেক দীর্ঘ বছর এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন বলেন, “নৌবাহিনীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। যদিও এখন থেকে আমরা এনসিটি থেকে বের হচ্ছি, তবে সিসিটি তে আমাদের কার্যক্রম চুক্তি অনুযায়ী চালু থাকবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চট্টগ্রামের বন্দর কার্যক্রমে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নৌবাহিনীর পরিচালনায় এনসিটির আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া বন্দর পরিচালনায় সামরিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সংযোজন বন্দরকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তবে, সামরিক বাহিনী দ্বারা বন্দর পরিচালনার এই ধরণের পরিবর্তন কতটুকু কার্যকর হবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ের পরীক্ষায় দেখতে হবে। একই সঙ্গে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা কতটা সম্ভব হবে, এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ও পণ্য আমদানিকারকদের মনোযোগ নিবদ্ধ থাকবে।
সবমিলিয়ে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণাধীন ড্রাইডকের হাতে তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হলো। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, এই পরিবর্তন বন্দর পরিচালনায় গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



