ছবি: সংগৃহীত
আগামী পাঁচ মাস পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ কথা মাথায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে পূর্ণমাত্রায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর উত্তরা শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদর দপ্তর ও উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শানিত রাখার জন্য আগেভাগে কাজ শুরু করে দিয়েছি। যদিও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের বিষয়টি শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভর করে না, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকলের দায়িত্ব।”
বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে যে, দেশের নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট সুষ্ঠু নয়। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, “রাজনীতিতে বিভিন্ন পক্ষ অনেক কথা বলে, এগুলো নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমাদের প্রস্তুতি সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এতে কোনো ঘাটতি নেই।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় ধরে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিচ্ছি যাতে কোনোরকম আইনি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা না হয়।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল পুলিশের উপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে বলেন, “নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবার সম্মিলিত ভূমিকা থাকতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তবে সবার সমন্বয় ছাড়া ফলাফল আসবে না।”
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকটি ‘মব’ বা অস্থির পরিস্থিতির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট ও ফরিদপুর। এসব ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মব পরিস্থিতি কিছুটা কমে আসছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকদিনে কিছু এলাকায় আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, শিল্পাঞ্চলে গত বছর জুলাই-আগস্ট মাসে কিছু সমস্যা হয়েছিল, যা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠা গেছে। তবে দেশের শিল্প খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। “শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা বিধানে জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের যোগান বৃদ্ধি জরুরি, কারণ শিল্পের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার চাহিদাও বেড়েছে,” বলেন তিনি।
উত্তরা শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদর দপ্তর ও উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসার এবং জনবল প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন ছাড়া বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচন এবং সাধারণ সময়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দক্ষতায় কাজ করবে।
আইন ও শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশ্লেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, “নির্বাচনের আগে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুধুমাত্র পুলিশ নয়, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকেও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমঝোতা ও সহযোগিতা ছাড়া দেশের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শোভন কুমার বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্বেগ স্বাভাবিক, তবে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রস্তুতির ঘোষণা আসা ইতিবাচক। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও জনমনে নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়বে। তবে বাস্তবতা কি হবে তা নির্বাচনের দিনই স্পষ্ট হবে।”
সার্বিকভাবে, পাঁচ মাস পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কথায়, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে যথাযথ সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর সফল বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাত্ম প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



