ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলক রাজনৈতিক স্থবিরতার পর আবার মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে আগামী ৪ আগস্ট রাজধানীতে একটি বড় আলোচনাসভার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
সেখানে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। একই সঙ্গে জোটভুক্ত ও সমমনা দলগুলোও দলীয় কিংবা যৌথ কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্য দিয়ে সামনের জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান দৃশ্যমান করার সূচনা করতে চায় সরকারপন্থী দলগুলো। বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে একটা প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনা আছে। সময় হলে বিস্তারিত জানানো হবে।’
মিত্র দলের একাধিক শীর্ষ নেতা মনে করেন, জামায়াত ও এনসিপিকে ফাঁকা মাঠে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এ ছাড়া বিএনপির রাজনীতি এবং সমমনা দলগুলো যেন সরকারে হারিয়ে না যায়, সে জন্য শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠের কর্মসূচিতে যেতে হবে।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যুমনা’য় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে জোরালো বক্তব্য দেন সমমনা রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। বিএনপি চেয়ারম্যানও দেশ গড়ার জন্য আগামী দিনের মিত্র দলগুলোর প্রতি আহবান জানান। একই সঙ্গে তিনি মাঠের রাজনীতি সক্রিয় থাকার বিষয়টির ওপরও গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় মিত্র দলগুলোর নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, ‘আমরা সরকারকে দেখছি, কিন্তু বিএনপিকে কোথাও দেখছি না। এমনকি যুগপতের শরিকদেরও রাজপথে অ্যাক্টিভ দেখছি না।
পরোক্ষভাবে এর মধ্য দিয়ে জামায়াত-শিবিরের জন্য কি মাঠ খালি ছেড়ে দিলেন নাকি?’
মিত্রদের একজন বলেন, ‘দলীয় কর্মকাণ্ডের জায়গাটা বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের প্রোগ্রামগুলোতে তাঁরা আসবেন, তাঁদের প্রোগ্রামে আমরা যাব—এমন কিছু হয়তো দাঁড়াবে। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির বিভক্তি-বিভাজন, হিংসা বা এক ধরনের ধর্মীয় রাজনীতির এখানে উত্থান ঘটাতে চায়। এর বাইরে একটা প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক সরকারের ভেতরকার বা বাইরের শক্তিগুলোর মধ্যে একটা ঐক্যের জায়গা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটাই গুরুত্বপূর্ণ একটা বার্তা।’
বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী গত কয়েক মাসে সরকার পরিচালনার বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক নানা ব্যস্ততায় মাঠের রাজনৈতিক কর্মসূচি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে এখন মাঠের রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়া হবে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদার করছে। এমন বাস্তবতায় মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি এবং সরকারপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠ ছেড়ে দিলে চলবে না।
শরিকদের পরামর্শ, শরিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি দল মাঠের রাজনীতিতে ফিরতে চায়। সংসদের বাইরেও প্রতিটা পয়েন্টে কথা বলা, সক্রিয় থাকা। জামায়াত-এনসিপি যেখানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারা দেশ, সেই জায়গাগুলো থেকে বিএনপিকেও নিজের মতো করে রাজনীতির মাঠের কর্মসূচি ঠিক করতে হবে। অন্য দলগুলো বা সমমনা দল বা যাদের মধ্যে ঐক্য আছে, তারা একটু সমন্বিতভাবে মাঠের রাজনীতি সচল, সক্রিয় এবং আরো জোরদার করা। বড় পরিসরে এমন চিন্তা-ভাবনা আছে বিএনপি ও সমমনাদের।
জানতে চাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে পরিষ্কারভাবে বলেছি, জামায়াত-শিবিরের জন্য মাঠ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না? আরো অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে। শুভেচ্ছা বিনিময়ের ইম্পর্ট্যান্ট হচ্ছে—নিয়মিত বসা, কথা বলা, শেয়ার করা, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বা পরামর্শ নেওয়া-দেওয়া—এগুলো বিএনপি চালু করতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘পলিটিক্যাল জায়গাটা হলো—এখানে আগামী আগস্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বার্ষিকীতে বিএনপি একটা বড় আলোচনা করবে, যেখানে যুগপতের শরিকরা সবাই থাকবেন। এটা সম্ভবত ৪ আগস্ট করার আলোচনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত পার্লামেন্টে যে কমিটিতে যেটা হয়েছে—সেই কমিটিও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবে। এক ধরনের মতবিনিময় করবে। আমরা সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচিগুলোকে হয়তো সমর্থন করব। আর যেগুলো মনে হবে যে তারা জনগণের স্বার্থের পক্ষে না, দেশের বিরুদ্ধে বা জনস্বার্থের পরিপন্থী, আমরা এগুলোর সমালোচনা করব, বিরোধিতা করব। আমাদের পলিসিটা আপাতত এ রকমই হবে।’
গণতন্ত্র মঞ্চকে সক্রিয় করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র মঞ্চের এই নামেই অ্যাক্টিভ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ১ আগস্ট আমরা বসতে পারি, মঞ্চগতভাবে না, মঞ্চের হয়তো শরিক তিন-চারটা সংগঠন থাকবে। তবে যুগপতের শরিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ, সম্পর্ক, লিয়াজোঁ এটা আমরা অব্যাহত রাখছি। এটা আগামী দিনগুলোতে আমরা আরো বাড়াব।’
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)


