ছবি: সংগৃহীত
গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। ১০ শিল্পগোষ্ঠী হলো—এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানান, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর সম্পদের মধ্যে দেশে জব্দ করা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা, আর বিদেশে জব্দ হয়েছে আরও ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ। তবে কার কত সম্পদ জব্দ হয়েছে, সে বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো তথ্য দেননি তিনি। বিএফআইইউ প্রধান বলেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছেন।
ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পরবর্তীতে ভারতে চলে যান। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাঁর পরিবার এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযুক্ত শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো—এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ।
এ ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিএফআইইউয়ের আজকের অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, দেশে কোনো সরকার ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই কেন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকারীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হবে কি না—এ বিষয়েও জানতে চান তিনি। এর জবাব দেন বিএফআইইউ প্রধান।
বিএফআইইউয়ের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে দলমত ও ব্যক্তির দিকে তাকাব না। আমরা দেখব কাজের দিকে। সন্দেহজনক লেনদেন হলেই ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সন্দেহজনক লেনদেন যিনি করে থাকেন না কেন, এখানে সেই ব্যক্তির পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ করে থাকলে, সেটাও সামনে আসবে।’
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



