
ছবি: সংগৃহীত
অনেক সময় মানুষ ভাবে, পায়ে টান ধরা বা ক্র্যাম্প মানেই শরীরের পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, হাঁটুর নিচে ব্যথা মানেই বাত রোগ। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষ্য একেবারেই আলাদা। পায়ের ব্যথা বা অস্বস্তির পেছনে থাকতে পারে হৃদরোগসহ আরও নানা জটিল রোগের ইঙ্গিত।
শরীরে যখন অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে যায়, তখন ধমনীর ভেতরে স্নেহ পদার্থের আস্তরণ তৈরি হয়। একে বলা হয় প্লাক। এই প্লাক রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রভাব পড়ে বিশেষত পায়ে, কারণ এখানে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা, টান বা প্রদাহ দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা পিএডি।
পিএডি-র প্রভাব শুধু পা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার কারণে করোনারি আর্টারি ডিজিজ হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তখন হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। ফলে অনিয়মিত হার্টবিট, বুক ধড়ফড় বা মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দেখা দেয়।
গবেষণা বলছে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেক বেশি দেখা যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার হওয়া উচিত। যদি তা ২৪০ ছাড়িয়ে যায়, তখনই শুরু হয় বড় বিপদ। অতিরিক্ত ফ্যাট ও প্রোটিন জমতে জমতে রক্তজালিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শুধু পায়ে নয়, হার্ট, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, পায়ের ব্যথা কখনও অবহেলা করা যাবে না। এমন উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। কারণ শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে তা বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিতও হতে পারে।
সতর্ক সংকেতগুলো হলো—
-
রাতে হঠাৎ টান ধরা বা যন্ত্রণা
-
হাঁটার সময় ব্যথা বেড়ে যাওয়া
-
পায়ের শিরা ফুলে ওঠা
-
ক্রমাগত প্রদাহ
এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ পায়ের ব্যথা শুধুই স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং তা পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাবার্তা/এমএইচও