
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আব্বাস আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উচ্চ-পর্যায়ের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ওই সময় ফ্রান্স ও সৌদি আরব আয়োজিত একটি শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল।
পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিল ও প্রত্যাখ্যানের কারণে আব্বাস এবং প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি নেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আব্বাসের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপটি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সঙ্গে করা চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন তারা। চুক্তি অনুযায়ী, সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকদের নিরবিচ্ছিন্নভাবে জাতিসংঘে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তবে ওয়াশিংটনের যুক্তি, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে তারা ভিসা প্রত্যাখ্যান বা বাতিলের ক্ষমতা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর আরও জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং পিএলও চরমপন্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং একতরফাভাবে রাষ্ট্র স্বীকৃতির চেষ্টা করছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন, বহু বছরের আলোচনার পরও ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শেষ হয়নি এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠন সম্পন্ন হয়নি।
পররাষ্ট্র দফতর জানায়, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করার কারণে পিএলও ও পিএকে জবাবদিহি করতে হবে। তবে জাতিসংঘে স্থায়ীভাবে কর্মরত ফিলিস্তিনি মিশন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, “জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ভিসা ইস্যু নিয়ে সদর দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।” বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলে এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গুরুত্বসহকারে অনুসরণ করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
বাংলাবার্তা/এমএইচও