
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নির্বিচার হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জুলাই ঐক্যের সহযোগী ১০১ সংগঠন। তারা জানিয়েছে, অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে, নইলে সারা দেশে প্রতিরোধ আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়বে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজয় নগরে গণঅধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো উসকানি ছাড়াই তাদের ওপর চড়াও হয়। মিছিল ভাঙতে গিয়ে লাঠিচার্জ, ধাওয়া ও নির্বিচার প্রহার চালানো হয়। এতে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে ১০১ সংগঠন বলেছে—
-
“এটি ন্যক্কারজনক, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।”
-
“জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সঙ্গে এভাবে বেইমানি করা মানে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
-
“গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা মানে জনগণের ওপর হামলা।”
সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, সেনা ও পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ‘মব-হামলা’ চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “রাষ্ট্রযন্ত্রকে যদি রাজনৈতিক মব হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে জনগণ প্রতিরোধে নামতে বাধ্য হবে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করে। জনগণ ভেবেছিল সহনশীল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পাবে। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনায় আবারও পুরনো ফ্যাসিবাদী দমননীতির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে বলে দাবি সংগঠনগুলোর।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জাতীয় পার্টিকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেছে, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী এ দল আজও গণবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ করতে গিয়েই নুরসহ নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছেন।”
যৌথ বিবৃতিদাতা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে—আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই রেভলুশনারি অ্যালায়েন্স, কওমি ছাত্র আন্দোলন, জুলাই সাংস্কৃতিক সংসদ, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, রাইজিং ইয়ুথ রামপুরা, জাগ্রত জুলাই, বাংলাদেশ রিপাবলিকান, জুলাই সংগ্রাম পরিষদ, মুক্তির নিশান, অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট কোয়ালিশনসহ আরও বহু সংগঠন।
শেষে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যদি আবারও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সামরিক মব নামানো হয়, আমরা সারা দেশে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলব। জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেব না।”
বাংলাবার্তা/এমএইচও