
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বেসরকারি পাঁচ ব্যাংক এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের জমা অর্থ ফেরত দিতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত গ্রাহক হতাশ হয়ে শাখা থেকে খালি হাতে ফিরছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দীর্ঘমেয়াদি লুটপাট, ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকগুলো ধ্বংসের পথে যায়। নতুন করে টাকা ছাপিয়ে সহায়তা দেওয়ার পরও সংকট সামলানো যায়নি। মার্জার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় এখন গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এক গ্রাহক সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “মাসের পর মাস ধরে আমি আমার জমা টাকা চাইছি। এক টাকাও পাইনি। এখন ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”
গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা যখনই শাখায় যান, তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অজুহাতে ফিরিয়ে দেন। “কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা দিচ্ছে না”, “সিস্টেম ডাউন আছে”—এই ধরনের কারণ দেখিয়ে প্রতিদিন তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রতিদিন গ্রাহকের রোষানলে পড়ছি। অনেকে আমাদের গালাগাল করছেন, অপমান করছেন। অথচ আমরাও বেতন পাচ্ছি না। এখন বেতন দিতে পারছি মাত্র ৫ হাজার টাকা।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। তখন থেকেই ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্বল ব্যাংকগুলোর ১৪টি পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া অনেক ব্যাংক এতটাই দুর্বল যে সেগুলো এখন পুরো অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকের মূলধনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। আর খেলাপি ঋণ প্রায় সমপরিমাণ আমানতের সমান। এতে বোঝা যায়, আমানতকারীদের টাকা কার্যত আর ফেরত পাওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
ঢাকার বাইরে মফস্বল শহরগুলোতেও একই অবস্থা। নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, বগুড়া, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে গ্রাহকরা একই অভিযোগ করছেন। ছোট অঙ্কের আমানতকারীরা সামান্য টাকা তুলতে পারলেও বড় অঙ্কের আমানতকারীরা এখন পুরোপুরি বিপাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তারা ধাপে ধাপে সংস্কার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত মার্জার সম্পন্ন না হয়, তবে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচও