
ছবি: সংগৃহীত
আগামী জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আলোচনায় উঠে আসছে কালো টাকার ব্যবহার। ভোট কেনা-বেচা যেন নির্বাচনী সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রবণতা রোধে এবার দৃঢ় অবস্থানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন ঘোষণা দিয়েছেন—কালো টাকার প্রবাহ বন্ধে এবং প্রার্থীদের হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের দেশে নির্বাচনের সময় ভোট কেনার প্রবণতা খুব বেশি। এখানে টাকার যোগানই মূল সমস্যা। ব্যাংকিং চ্যানেলসহ যেসব মাধ্যমে টাকা সরবরাহ হয়, সেগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি হবে। আমরা চেষ্টা করবো যেন এ ধরনের অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো প্রার্থী মিথ্যা তথ্য দেন বা সম্পদ গোপন করেন, তাহলে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দুদক ব্যবস্থা নেবে। এনফোর্সমেন্ট টিম মাঠে থাকবে, প্রয়োজনে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুদকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হবে, যারা নির্বাচনী প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী খতিয়ে দেখবে। কর রিটার্ন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের মতো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এমনকি সন্দেহজনক কোনো লেনদেন নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “ভোট কেনার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে আর্থিক উৎস বন্ধ করতে হবে। আমরা শুধু প্রার্থীদেরই নয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের ওপরও নজর রাখবো। এ উদ্যোগ সফল হলে নির্বাচনে কালো টাকা নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না। এবার যদি দুদক প্রকৃত অর্থে কঠোর হয়, তবে তা হতে পারে একটি মাইলফলক। নাগরিক সমাজের মতে, নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ হলে শুধু প্রার্থীদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রই সমতল হবে না, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারও নিশ্চিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই নানা প্রস্তুতি শুরু করেছে। এরই মধ্যে দুদকের সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘোষণা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সচেতন মহল মনে করছে, যদি আর্থিক প্রবাহ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং প্রার্থীদের সম্পদ যাচাই যথাযথভাবে হয়, তবে এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন আস্থার জন্ম দেবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচও