ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ কাঁপানোর পর এবার প্রশাসনিক দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন তামিম ইকবাল। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর আজ (৭ জুন) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পরিচালক নির্বাচিত হন এবং পরে পরিচালকদের সমর্থনে বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে তিনি বিসিবির ১৮তম সভাপতি এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন।
শনিবার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে অংশ নেন। পরিচালক নির্বাচনের পরপরই সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সভাপতি পদে তামিম ইকবাল ছাড়া আর কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। একক প্রার্থী হিসেবে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন।
নতুন কমিটিতে আপাতত একজন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ফাহিম সিনহা। বিসিবির নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
পরিচালক নির্বাচনে ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে অংশ নেন তামিম ইকবাল। এই ক্যাটাগরিতে তিনি সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যা পুরো নির্বাচনের সর্বোচ্চ ভোট। তার এই বিপুল সমর্থন ক্রিকেট সংগঠক ও ভোটারদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম এবং সাকেফ আহমেদ সালাম। মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন।
অন্যদিকে এই ক্যাটাগরিতে পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে পারেননি বোরহানুল পাপ্পু, আমজাদ হোসেন, ফায়াজুর রহমান মিতু এবং ইমরোজ আহমেদ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তারা প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় বাদ পড়েন।
ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইসরাফিল খসরু। এছাড়া মাসুদুজ্জামান পেয়েছেন ৭০ ভোট এবং ইয়াসির ফয়সাল পেয়েছেন ৬৮ ভোট। এসব ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, ক্লাব ক্যাটাগরিতে কয়েকজন প্রার্থী ব্যাপক সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ক্যাটাগরি-১ থেকে বিভিন্ন বিভাগীয় প্রতিনিধিরাও পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সাইদ বিন জামান ও এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মিনহাজুল আবেদীন ও মঈন উদ্দিন চৌধুরী। খুলনা বিভাগে জয় পেয়েছেন শফিকুল আলম ও শান্তনু ইসলাম। রাজশাহী বিভাগ থেকে পরিচালক হয়েছেন মীর শাকরুল আলম, রংপুর বিভাগ থেকে মির্জা ফয়সল আমীন, সিলেট বিভাগ থেকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং বরিশাল বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মিজানুর রহমান।
ক্যাটাগরি-২ থেকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং সাকিফ আহমেদ।
এছাড়া ক্যাটাগরি-৩ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে তামিম ইকবালের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার তিনি ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা, তার নেতৃত্বে বিসিবি নতুন পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
.png)
.png)
.png)



