ছবি: সংগৃহীত
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এবার উঠল উসমান দেম্বেলের হাতে। তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ফরাসি উইঙ্গার প্রথমবারের মতো জিতলেন এ সম্মান। সোমবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ২৮ বছর বয়সী পিএসজি তারকার হাতে পুরস্কার তুলে দেয় ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল। এই জয় দিয়ে তিনি শুধু নিজের ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তকেই স্মরণীয় করলেন না, একই সঙ্গে ফুটবল বিশ্বকে জানালেন—দীর্ঘদিন ধরে চোট আর অনিয়মিত পারফরম্যান্সে ভুগলেও তিনি কতটা বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম।
গত মৌসুমে দেম্বেলে খেলেছেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল ফুটবল। ইউরোপীয় ফুটবলে ক্লাব পর্যায়ের সর্বোচ্চ আসর—উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতা পিএসজির অন্যতম নায়ক তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে করেছেন ৮ গোল, দিয়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট। শুধু ইউরোপ নয়, ফরাসি লিগ আঁ, ফরাসি কাপ ও সুপার কাপ মিলিয়ে দলকে ঘরোয়া ট্রেবলও এনে দিয়েছেন। ৫৩ ম্যাচে সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা ৩৫, সঙ্গে অ্যাসিস্ট ১৬টি। সুপার কাপ ফাইনালে তার করা জয়সূচক একমাত্র গোল ক্লাবের ট্রফি ক্যাবিনেটে যুক্ত করেছে আরেকটি শিরোপা।
অনেকে মনে করেছিলেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে চলে যাওয়ার পর পিএসজির তারকাখ্যাতি ম্লান হয়ে যাবে। কিন্তু দেম্বেলের পারফরম্যান্স সেই শূন্যতা পূরণ করেছে এবং তাকে পরিণত করেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে।
যদিও দেম্বেলে জিতেছেন, তবে ভোটে পিছিয়ে থাকলেও আলোচনায় ছিলেন বার্সেলোনার প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। গত মৌসুমে কাতালান ক্লাবকে ঘরোয়া ট্রেবল উপহার দিয়েছেন—লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ। মৌসুমজুড়ে ৫৫ ম্যাচে ১৮ গোল ও ২৫টি অ্যাসিস্ট করে চমক জাগিয়েছেন এই কিশোর উইঙ্গার।
ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, ইয়ামাল এই পুরস্কার না পেলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন, যদি তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ব্যালন ডি’অরেও রচনা হলো নতুন ইতিহাস। বার্সেলোনার মিডফিল্ডার আইতানা বনমাতি টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে রেকর্ড গড়লেন। এর আগে কোনো নারী ফুটবলার একটানা তিনবার এই সম্মান পাননি।
২৭ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বার্সেলোনাকে ঘরোয়া ট্রেবল জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মৌসুমজুড়ে করেন ১৬ গোল, দেন ১২টি অ্যাসিস্ট। পাশাপাশি নির্বাচিত হন উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মৌসুমসেরা খেলোয়াড়। যদিও ফাইনালে আর্সেনালের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়, তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন সেরা। তার এই সাফল্য নারীদের ফুটবলে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
২০২২ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর দেওয়া হচ্ছে পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায়, এর আগে এটি নির্ধারণ করা হতো ক্যালেন্ডার বছরের ওপর ভিত্তি করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের ভোটেই চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। দেম্বেলের সাফল্য প্রমাণ করে, ধারাবাহিকতা ও ক্লাব পর্যায়ে দলীয় অবদান ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সেরা ১০-এর তালিকা (ব্যালন ডি’অর ২০২৫)
১. উসমান দেম্বেলে (পিএসজি)
২. লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা)
৩. ভিতিনিয়া (পিএসজি)
৪. মোহাম্মদ সালাহ (লিভারপুল)
৫. রাফিনিয়া (বার্সেলোনা)
৬. আশরাফ হাকিমি (পিএসজি)
৭. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ)
৮. কোল পালমার (চেলসি)
৯. জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা (পিএসজি)
১০. নুনো মেন্দেস (পিএসজি)
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর আবেগাপ্লুত দেম্বেলে বলেছেন, “এটা শুধু আমার জন্য নয়, পিএসজির প্রতিটি সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকের জন্যও এক বিশেষ মুহূর্ত। আমি চেয়েছিলাম মাঠে প্রমাণ করতে যে আমি সেরা হতে পারি। আজকের এই পুরস্কার আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি।”
অন্যদিকে, ইয়ামাল জানিয়েছেন, “আমি হতাশ নই। এই পুরস্কার জেতা দেম্বেলের প্রাপ্য ছিল। আমার বয়স এখনো কম, সামনে অনেক সময় আছে।”
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, দেম্বেলের জয় একদিকে তার ব্যক্তিগত পুনর্জাগরণের গল্প, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের সামনে প্রেরণার উদাহরণ। ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে এবার যেমন দেম্বেলে নিজের নাম লিখলেন, তেমনি ইয়ামালও আগামীতে আলো ছড়াতে প্রস্তুত।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



