ছবি: সংগৃহীত
অনুমোদনহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগ বা আর্থিক লেনদেন থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে ‘ক্রসমার্কেট.এআই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মে অবৈধভাবে বিনিয়োগ সংগ্রহ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনার অভিযোগের পর এ সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত কোনো প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা বা আর্থিক লেনদেন করা আইনবিরোধী। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ক্রসমার্কেট.এআই’-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ করলে একদিকে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে অননুমোদিত লেনদেনের কারণে ব্যবহারকারীরাও আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন।
তাই নিজেদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ক্রসমার্কেট.এআই’-সহ যেকোনো অননুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ বা আর্থিক লেনদেন না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম নিয়েও সতর্কতা
এর আগে মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নজরে এসেছে, বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলে কিছু প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্ম কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের কন্টাক্টস, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ঋণের অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ওপর চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে মানুষের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য; দুই ধরনের নিরাপত্তাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, দেশে ঋণ দেয়ার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ ছাড়া কোনো অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ দেয়ার কার্যক্রম বৈধ নয়।
যে ৩১ অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা
বিএফআইইউয়ের নজরে আসা অনুমোদনহীন ঋণদাতা অ্যাপগুলোর তালিকায় রয়েছে সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়ানজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
গ্রাহকদের যে পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
অনলাইনে ঋণ নেওয়া বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক-
১. অপরিচিত মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেয়া।
২. প্রতারণা বা মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে, এমন কোনো অবৈধ ঋণ কার্যক্রমে না জড়ানো।
৩. ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা মোবাইল ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য না দেয়া।
৪. ঋণ দেয়ার আগে অগ্রিম টাকা, প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি দাবি করা হলে সতর্ক হওয়া।
এ ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউকে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ জন্য বিএফআইইউয়ের ওয়েবসাইট অথবা মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা যাবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



