ছবি: সংগৃহীত
এশিয়া কাপের ফাইনাল মানেই ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টুর্নামেন্টের শেষ লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে নবমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। তবে জয়ের আনন্দে ভাসলেও ভারতীয় শিবিরে ছিল এক অদ্ভুত দৃশ্য—চ্যাম্পিয়ন হয়েও তারা হাতে নেয়নি ট্রফি কিংবা গলায় ঝোলায়নি মেডেল।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে সাধারণত দ্রুতই শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। কিন্তু এবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে দেওয়া হয় ব্যক্তিগত পুরস্কার। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ভারতের তরুণ ব্যাটার তিলক ভার্মা। টুর্নামেন্ট সেরার স্বীকৃতি পান ওপেনার অভিষেক শর্মা। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে কুলদিপ যাদবের হাতে ওঠে আরেকটি পুরস্কার।
অন্যদিকে রানার্স-আপ পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা যথারীতি মেডেল সংগ্রহ করেন। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার হাতে তুলে দেওয়া হয় রানার্স-আপ দলের জন্য নির্ধারিত ৭৫ হাজার ডলারের প্রতীকী চেক।
এ পর্যায় পর্যন্ত সবকিছুই চলছিল নিয়মমাফিক। কিন্তু অভিষেক শর্মাকে টুর্নামেন্টসেরা পুরস্কার দেওয়ার পর সবাই অপেক্ষায় ছিলেন ভারতীয় দলকে মেডেল ও ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানের জন্য। সেই সময় উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক কিউই ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সাইমন ডুল হঠাৎ ঘোষণা দেন, “এসিসির পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়েছে, ভারতীয় দল আজ তাদের পুরস্কার গ্রহণ করবে না।” তবে তিনি আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ঘটনাটি মুহূর্তেই আলোড়ন তোলে। ক্রিকেটপ্রেমীরা হতবাক হয়ে যান—চ্যাম্পিয়ন দলই যদি ট্রফি না নেয় তবে উদযাপন কেমন করে হবে? অথচ ভারতীয় ক্রিকেটাররা বিষয়টি বেশ স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেন। তারা মঞ্চে না গিয়ে নিজেদের মতো করে মাঠেই উদযাপন সারেন। ট্রফি ছাড়াই সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন এবং মাঠের ফটোগ্রাফারদের সামনে দলীয় ছবিও তোলেন, যেন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শিরোপা হাতে নিয়েছেন।
ভারতীয় দলের এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে পরে শুরু হয় নানামুখী আলোচনা। আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু না বললেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর আসে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট নিয়ে। বলা হয়, ফাইনালের পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য মহসিন নাকভি। কেবল মন্ত্রী হিসেবেই নয়, তিনি আবার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান। এসিসি প্রধান হিসেবে তার হাতেই চ্যাম্পিয়ন ট্রফি দেওয়ার কথা ছিল ভারতের হাতে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ম্যাচের আগেই গুঞ্জন ছড়ায়—ভারত নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হলো। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ না তুললেও, শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব যে ক্রিকেট অঙ্গনকেও ছুঁয়ে গেছে, সেটি আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
ফলে এবারের এশিয়া কাপের স্মৃতিতে থাকবে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য—টুর্নামেন্ট শেষে চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলকে ট্রফি ও মেডেল ছাড়া উদযাপন করতে দেখা গেল। যদিও জয় ও পরিসংখ্যানের খাতায় নবম শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে তাদের নামেই, তবে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে অনুপস্থিতি ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আপনি চাইলে আমি এই নিউজে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং এসিসির কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মন্তব্যও যুক্ত করে আরও সমৃদ্ধ করে দিতে পারি। চাইবেন কি আমি সেটি যোগ করি?
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



