ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় আছে ইরান। আগামীকাল এই জবাব পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে তেহরান।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানায় ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার স্থানীয় সময় জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরো পরোক্ষ আলোচনা করা হয়েছে। আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাগচি বলেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা।
তিনি বলেন, সংকটের সমাধান এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে ইরান একটি ‘ন্যায্য ও যৌক্তিক’ পরিকল্পনা দিয়েছে। তবে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আরাগচি বলেন, ইরানের দায়িত্ব ছিল এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্য দেশগুলোর কাছে তুলে ধরা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানো হয়েছে যে, সংকট সমাধানে ইরানের একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বৈঠকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমানোর বিষয়ে কিছু নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের দেওয়া পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আরাগচি বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবের কারণে এই যোগাযোগ এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, ইরান ইস্যুতে মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সোমবার আলোচনা করেছেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তবে আলোচনায় কী বিষয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প।
আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিউইয়র্কে আব্বাস আরাগচির মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। সেখানে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত চলার মধ্যেই এই আলোচনা হচ্ছে। এর কয়েক দিন আগে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফর করে। তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে তুলে দেয়। এর বিনিময়ে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা চেয়েছিল বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত সপ্তাহে আরাগচি সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেন। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে।
ইরান জানিয়েছিল, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সঙ্গে কয়েকটি শর্ত যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানোর মতো পদক্ষেপও ছিল। তবে রবিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তার দাবি, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই ইরান নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদে’ প্রবেশাধিকার চেয়েছিল। ওয়াল্টজ বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রাখবেন। তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন আরাগচি। তিনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইরানের দেওয়া প্রস্তাবটি দেখেননি।
আরাগচি আরো বলেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান তার মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তার ভাষ্য, নতুন কোনো আগ্রাসন হলে ইরান শক্তভাবে প্রতিরোধ করবে, এমনকি পরিস্থিতি বড় ধরনের যুদ্ধে পরিণত হলেও। আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ইরান চিন্তিত নয়। তেহরানের মূল লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন ট্রাম্পের বলে মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধে হরমুজ প্রণালি এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইরান বলছে, একটি চুক্তির অংশ হিসেবে তারা এই নৌপথ আবার খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এ অবস্থায় সোমবার নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব এবং দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল না।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



