ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন ও গর্বের সুযোগ হওয়া অস্কার প্রতিযোগিতায় এবার মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত ‘সাবা’ বাদ পড়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। মাকসুদ হোসেন পরিচালিত এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে প্রশংসিত হলেও, বাংলাদেশের অস্কার কমিটি দেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য বেছে নিয়েছে লিসা গাজী পরিচালিত ‘বাড়ির নাম শাহানা’। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘সাবা’র নির্মাতা ও অভিনেত্রী মেহজাবীনের স্বামী আদনান আল রাজীব।
‘সাবা’ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। লন্ডন, শিকাগো, মেলবোর্ন, মুম্বাইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হয়েছে। বিশেষত টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে স্বীকৃতি পাওয়া ছবিটি বাংলাদেশের কৃতিত্বকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে।
তবু, অস্কার বাংলাদেশ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘বাড়ির নাম শাহানা’, যা সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি এক তালাকপ্রাপ্ত নারীর সংগ্রাম ও জীবনকাহিনি তুলে ধরে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনান সিদ্দীকা। সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর।
‘সাবা’ বাদ পড়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আদনান আল রাজীব। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “একটি চলচ্চিত্র যখন আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে স্বীকৃতি পায়, আর দেশের অস্কার কমিটি তাকে গুরুত্ব দেয় না, তখন তা হতাশাজনক। ‘বাড়ির নাম শাহানা’ সুন্দর ছবি হতে পারে, কিন্তু যদি লক্ষ্য হয় অস্কারে দেশের প্রতিনিধিত্বকে শক্তিশালী করা, তবে ‘সাবা’ নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী নাম।”
রাজীবের মন্তব্য অনুযায়ী, অস্কার কমিটি প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং আন্তর্জাতিক কৌশল বোঝে না। তার ভাষ্য, “যে দেশ তার শিল্প-সংস্কৃতিকে কীভাবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করতে হয় তা না জানে, সেই দেশ কখনও চলচ্চিত্রে শীর্ষে পৌঁছাতে পারবে না। আমরা এখনো তৃতীয় বিশ্বের দেশ, কারণ ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।”
রাজীবের সমালোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন। ফেসবুকে রাজীবের পোস্টে মন্তব্য করে তিনি লেখেন, “আমি তোমার সঙ্গে একমত। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ‘সাবা’ ছবিটিই ভালো লেগেছে। এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত, কারণ আমি ছবিটি বেশি পছন্দ করেছি।”
নুহাশ হুমায়ূন ও অন্যান্য নির্মাতারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত সিনেমাকে দেশের অস্কার প্রতিযোগিতায় উপেক্ষা করা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘বাড়ির নাম শাহানা’ সিনেমাটি একজন তালাকপ্রাপ্ত নারীর সংগ্রাম ও জীবনযাত্রার গল্প উপস্থাপন করে। পরিচালক লিসা গাজী এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নারীর স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও সমাজের সঙ্গে সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। যদিও এটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে, অনেকে মনে করছেন, ‘সাবা’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কারণে অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য আরও শক্তিশালী প্রার্থী ছিল।
অস্কার কমিটির ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করছেন এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মন্তব্য করছেন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে স্বীকৃতি পাওয়া সিনেমাকে অগ্রাধিকার না দেওয়া চলচ্চিত্র নীতিতে সংস্কার ও স্বচ্ছতা আনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ‘সাবা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হলেও, অস্কার প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে ‘বাড়ির নাম শাহানা’। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি, যা নির্মাতা ও শিল্পীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মেহজাবীনের স্বামী এবং সমমনা নির্মাতারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে স্বীকৃতি পাওয়া সিনেমাকে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় দেশের চলচ্চিত্রের গুণমান ও মর্যাদাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
এদিকে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সমালোচকেরা এই বিতর্ককে চলচ্চিত্র নীতি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও শিল্পী স্বীকৃতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



