ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে চলমান টপ এন্ড সিরিজে বড় ধরনের ধাক্কার পর ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ ‘এ’ দল। আগের ম্যাচে পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে ৭৯ রানের ব্যবধানে হারের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সোহান-নাইমদের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লাগবে। তবে নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রানের জয় পেয়ে দল প্রমাণ করেছে, প্রতিযোগিতার ভেতরে তারা লড়াই করেই ফিরতে জানে। এ জয়ে বাংলাদেশের নায়ক তিনজন— ব্যাট হাতে জিশান আলম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব, আর বল হাতে রাকিবুল হাসান।
টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের হয়ে শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। উদ্বোধনী জুটিতে জিশান আলম ও মোহাম্মদ নাইম গড়েন ৬২ রানের জুটি। নাইম ২৫ রানে বিদায় নিলেও অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দলের স্কোর এগিয়ে নিতে থাকেন জিশান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৬ বলে ৭৩ রান, যাতে ছিল ৪টি চার ও ৫টি ছক্কার ঝড়। আগের ম্যাচেও ১৭ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে নজর কাড়েন তিনি, এবার সেই ধারাবাহিকতা আরও বড় পরিসরে দেখালেন।
জিশানের ব্যাটিংয়ের কারণে শুরুতে চাপমুক্ত থাকে দল। তবে ওয়ানডাউনে নামা সাইফ হাসান বেশ ধীরগতিতে খেলেন—১১ বলে ১১ রান। দলীয় ১১১ রানে আউট হয়ে ফেরার আগে জিশানের পাশে দাঁড়াতে না পারলেও, ততক্ষণে বাংলাদেশ শক্ত ভিত গড়ে ফেলে।
জিশানের বিদায়ের পর ইনিংসের দায়িত্ব নেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে তিনি ২৩ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন, যেখানে ছিল ৯টি চার। আফিফ নামার পর থেকে প্রায় প্রতিটি ওভারে বাউন্ডারি এসেছে, ফলে দলের রান বেড়েছে দ্রুত।
ক্যাপ্টেন নুরুল হাসান সোহান (৫), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৭) কিংবা সাইফ হাসানরা সুবিধা করতে না পারলেও আফিফের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থামে ৬ উইকেটে ১৮৩ রানে।
নেপালের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিজান ঢাকাল—২ উইকেট নিয়েছেন। একটি করে উইকেট শিকার করেছেন সন্দ্বীপ লামিচানে, কারান কেসি ও নন্দন যাদব। তবে বড় চ্যালেঞ্জ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা, বিশেষ করে জিশান ও আফিফের ব্যাট থামাতে না পারায় বাংলাদেশ তুলেছে বড় স্কোর।
১৮৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে নেমে নেপালের ইনিংসে ভরসা জাগান একমাত্র কুশাল মাল্লা। ৪৭ বলে অপরাজিত ৫৯ রান করে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। তবে অপর প্রান্তে ব্যাটাররা দাঁড়াতে পারেননি। আসিফ শেখ করেন ২৮, লোকেশ বাম ১৫, কুশাল ভুর্তেল ১২ ও রোহিত পৌডেল মাত্র ১০ রান। ফলে দল থেমে যায় ১৫৪ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে নায়ক বোলার ছিলেন রাকিবুল হাসান। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। তার স্লো বোলিংয়ে বারবার বিপদে পড়ে নেপালের ব্যাটাররা। পেসার হাসান মাহমুদ নেন ২ উইকেট, যদিও খরচ করেন ৩৬ রান। রিপন মণ্ডল ও তোফায়েল আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এ জয়ের মাধ্যমে সিরিজে বাংলাদেশের প্রথম জয় এলো। পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে ভরাডুবির পর এই জয় দলের মনোবল অনেকটা চাঙ্গা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তরুণ ব্যাটার জিশান ও আফিফের ধারাবাহিকতা এবং রাকিবুলের কার্যকর বোলিং ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো জাগাচ্ছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



