ছবি: সংগৃহীত
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সরকারের দায়িত্ব বণ্টনে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীসহ চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শূন্য হতে যাওয়া মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীর পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার)। ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার এক দিন পরই স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। নতুন চার সদস্যের মধ্যে কয়েকজনের অন্তর্ভুক্তি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানায়, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হওয়া রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা। সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হালিম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন চার সদস্যকে নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তাঁরা হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম।
এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিবের পদসহ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। অসুস্থতার কারণে বহু বছর ধরে তাঁকে দলের সভা ও কর্মসূচিতে দেখা যায় না। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বলে গণ্য হন। তাঁদেরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৯ জন। চেয়ারম্যান স্বয়ং এ কমিটির প্রধান থাকবেন।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। এরপর সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ শূন্য হলে বিভিন্ন সময়ে সেখানে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে দলটি। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নাম আলোচনায় ছিল। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দলের প্রধান নিশ্চয়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও আস্থা রাখেন।
মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় তাঁর দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভার কাজ পর্যালোচনা করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা কম। তবে কয়েকজন নতুন মুখকে যুক্ত করে সীমিত পরিবর্তন আনা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আনার আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, এমন অন্তত কয়েকজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা আছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে এই প্রতিবেদক গত দুই দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কেউ মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মহাসচিব পদে কে
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদ শূন্য হবে। এ পদে কে আসবেন, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনা হয়নি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার পর তাঁকে আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উত্তরসূরি কে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মির্জা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন, মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। পাশাপাশি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



