ছবির সর্বডানে প্রতারক মো. মনিরুজ্জামান, তার পাশে অভিনেতা সিদ্দিক যিনি ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে রাজধানীর বেইলি রোডে ছাত্র-জনতার হাতে গণধোলাই খেয়েছিলেন।
ডায়াবেটিসের মতো সংবেদনশীল রোগের চিকিৎসার জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে ভুয়া ওষুধ বাজারজাত করছে ওয়েলনেস ফুড অ্যাগ্রো অ্যান্ড কসমেটিকস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কথিত পুষ্টিবিদ এমডি সোলায়মান হোসেন। তার দাবি এই ওষুধ খেয়ে ৮৪ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী ভালো হচ্ছে।
‘ওয়েলনেস ডায়াফ্রা’ নামে ভুয়া এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, রিসার্চ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়ায় দেশকাল নিউজের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান কবীর আলমগীরকে মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দিয়েছেন সোলায়মান হোসেনের সহযোগী মো. মনিরুজ্জামান।
কবীর আলমগীরের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ ও ভয়েস রেকর্ডিং পাঠিয়ে দফায় দফায় হুমকি দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ এ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে এই হুমকি দেন। হুমকিতে মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ওয়েলনেস ডায়াফ্রা’র দিকে নজর দিলে পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে। তোকে সত্তর হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলব। তুই জানিস না কোথায় হাত দিয়েছিস।”
হুমকির ঘটনায় রাজধানীর কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন কবীর আলমগীর। গত ১৩ আগস্ট ওই জিডিতে সোলায়মান হোসেন ও মো. মনিরুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জিডি নম্বর: ৭৬৫।
জিডির বিষয়ে সাংবাদিক কবীর আলমগীর বলেন, “ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচার ও নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ডায়াফ্রা নামে এই ভুয়া ওষুধ বাজারজাত করা হচ্ছে। কোনোপ্রকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া এই ধরনের ওষুধ সেবন রোগীর ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করায় ওয়েলনেস ফুড অ্যাগ্রোর এমডির নির্দেশে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করেছি।”
হুমকির বিষয়ে অভিযুক্ত সোলায়মান দায় এড়িয়ে বলেন, “সাংবাদিক আমার কাছে তথ্য জানতে চেয়েছে, আমি বিষয়টি মো. মনিরুজ্জামানকে জানাই। মনিরুজ্জামান এই হুমকি দিয়েছে। আমি কিছু জানি না।”

ভুয়া ওষুধের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েলনেস অ্যাগ্রো অ্যান্ড কসমেটিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোলায়মান হোসেন।
অপর অভিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আমার কাছ থেকে ডায়াফ্রা’র অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। আমি অর্গানিক ফুড ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। ওই সাংবাদিক আমার সংগঠনের সদস্যের কাছে তথ্য জানতে চাইবে কেন? ওর মতো সাংবাদিক আমার পায়ের কাছে বসে থাকে। আমি ওই সাংবাদিকের চাকরি খেয়ে দেব।”
অর্গানিক ফুড ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুস সালাম বলেন, “মো. মনিরুজ্জামান প্রতারক। সে আদম পাচার ব্যবসায় জড়িত। আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে তাকে ২০১৯ সালে সংগঠন থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপরও নিজেকে স্বঘোষিত সভাপতি দাবি করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সে এই সংগঠনের কেউ না।”
মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় ২০২৫ সালে করা জিডির নম্বর: ১৬২২, খিলক্ষেত থানায় ২০২৪ সালে জিডি নম্বর: ৫৮৯, মতিঝিল থানায় ২০২০ সালে দায়ের করা জিডি নম্বর: ৫৮৯।
সাংবাদিক কবীর আলমগীরকে হুমকির বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার এসআই মো. আবু শরীফ বলেন, “জিডির বিষয়টি অবগত হয়েছি। এই ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



