ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গড়ে তুলতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করি এবং আপনাদের কম্পানিগুলোর সমৃদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করি।’ প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি কম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, আমাদের দেশ যে সুযোগগুলো দিতে পারে, তা অন্বেষণ করতে আপনাদের অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন। আশা করি, আপনাদের এই সফর আমাদের সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সী দূরদর্শী সরকার চায়, আমেরিকান কম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করুক।
আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাত দ্বারা চালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমরা চাই, আমেরিকান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই রূপান্তরে অংশীদার হোক। জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিষেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে আমাদের পারস্পরিক সুযোগ রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছি।
সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পরামর্শক সেবার মাধ্যমে হোক, আমাদের জাতি গঠনে আপনাদের অবদানকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সমন্বিত করতে চাই। আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ও ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি অপারেশনসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি অরোরা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা, মেটার দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি পরিচালক চা ইউয়েন টিং, মেটা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক পলিসি রুজান সারওয়ার, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিম লিড খবিবুর রহমান, ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আনন্দ বিজয় ঝা এবং ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।
বৈঠকে বক্তব্য দেন বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের প্রেসিডেন্ট এবং বোয়িং গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেন্ট সলিল গুপ্তে, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট শু শিয়ং, মেটলাইফের বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ভিয়েতনাম অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেনা বুতারোভা, উবারের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের প্রধান পিয়া ব্রুনার এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর প্যাট্রিক পিটস, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক উদয়া অরুণ, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক দেবী চ্যাটার্জি এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট শেমেই লেভি।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওলিভার সিম্পসন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ কম্পানির কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। কম্পানিগুলো হচ্ছে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ইউএস চেম্বার অব কমার্স, এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা বা ফেসবুক, ভিএফ করপোরেশন, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল, মেটলাইভ, বোয়িং, উবার, অ্যাপল, এশিয়া গ্রুপ, এপিআর এনার্জি, জিই ভারনুভা, ভিএফ করপোরেশন, করটিভা অ্যাগ্রি সায়েন্স, সেলফ সোর্স, ফুলকাসেমি, পাঠাও, সিসকো, রবার্ট, মেট্রো ট্র্যাক, এইচএসবিসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, অ্যাংকর লেস এবং ড্রিংক ওয়েল। এই ২৫টি কম্পানি থেকে আজকে টপ লিডারশিপরা এসেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ফলপ্রসূ ও কার্যকর আলোচনা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ স্বনির্ভর সমৃদ্ধ যে দেশ গড়তে যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেদিকে ধাবিত হচ্ছি।’
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



