ছবি: সংগৃহীত
নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যদি গোপনে কোনো তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনের পর এক তাৎক্ষণিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় তারা যদি কোনোভাবে গোপন বৈঠক, প্রশিক্ষণ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এ ধরনের প্রতিটি তৎপরতা নজরদারিতে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি কোনো বাহিনীর কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান সরকারের অবস্থান খুবই স্পষ্ট—কোনো দল বা গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুপ্ত তৎপরতা চালানোর অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে প্রকাশ্য বা গোপন প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের দেশের মিডিয়া অনেক বেশি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে। মিডিয়া সত্য প্রকাশ করেই যাচ্ছে, আর এই কারণেই বিদেশি মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারণা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। দেশের ভেতরে গণমাধ্যম যে সতর্কতা ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে, তা প্রশংসনীয়।”
পাঁচ আগস্টকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আগেই বলেছি, পাঁচ আগস্ট নিয়ে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা সক্রিয়, সজাগ এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মিডিয়া, সবার সহযোগিতার জন্যই পরিস্থিতি এখন শান্ত ও স্থিতিশীল।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। কেউ গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে, যেখানে নৈরাজ্য ও রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান থাকবে না।”
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন দেশের শাসন ক্ষমতায় ছিল, দলটির একাংশ এখনও নানা ধরনের নেটওয়ার্ক এবং সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের কড়া অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতি এবং একদলীয় শাসনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপে পড়ে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সর্বশেষ বক্তব্যে পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলেছে যে, সরকার তাদের ওপর নজর রাখছে এবং কোনো ধরনের গোপন তৎপরতা বরদাশত করা হবে না।
এই বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—আওয়ামী লীগ সত্যিই কি গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, নাকি এটি সরকারের কৌশলগত বক্তব্য? এর উত্তর খুঁজছে দেশবাসী। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান পরিষ্কার: “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



