ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্ককাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হলেও, মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশের কিছু পোশাক এই অতিরিক্ত শুল্ক থেকে ছাড় পেতে পারে—যদিও তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির পরিমাণের ওপর। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের স্মারকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য ট্যারিফ রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যার মাধ্যমে এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বেশি আমদানিতে উৎসাহিত করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ উৎসের তুলার ওপর নির্ভরতা কমানোই হবে এর মূল লক্ষ্য।
এতে বলা হয়, এই কোটা এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে; যাতে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মার্কিন তুলা আমদানির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই রপ্তানি করতে পারে। নোটিশে বলা হয়, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) প্রাথমিক ৩ বছর মেয়াদের একটি টিআরকিউ প্রতিষ্ঠা করবে; যাতে এসব দেশ মার্কিন তুলা আমদানির ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টেক্সটাইল এবং পোশাক ৩০১ অনুচ্ছেদের আওতায় অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকরতে পারে।
ট্যারিফ রেট কোটা (টিআরকিউ) কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নির্দিষ্ট টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ অব্যাহত রাখবে, যা স্মারকের ১(ক) ধারা অনুযায়ী ৩০১ অনুচ্ছেদের আওতায় প্রযোজ্য। এই নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) এবং টিআরকিউ চালুর তারিখ ফেডারেল রেজিস্টারে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক পুনর্নির্ধারণ করেছে ইউএসটিআর, যার ঘোষণা দেওয়া হয় গত বৃহস্পতিবার।
নতুন ঘোষণায় বাংলাদেশের শুল্ক হার ১০ শতাংশ। তবে রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী চীন, ভিয়েতনামের পণ্যে শুল্কহার বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ ঘোষণা হলে বাণিজ্য আইনের আওতায় সব দেশের জন্য বাড়তি ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মেয়াদ শেষের দিনে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়। এই শুল্ক পণ্যের ওপর সাধারণভাবে আরোপিত শুল্কের অতিরিক্ত।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



