ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামার পর আবারও বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার সুইস ফ্রাঁ, যা গড় বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে আমানত ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার সুইস ফ্রাঁ, ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে আমানত নেমে গিয়েছিল মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ ১৩ হাজার সুইস ফ্রাঁতে, আর ২০২২ সালে ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার সুইস ফ্রাঁ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এসএনবির ‘কমপ্রিহেনসিভ ইয়ার-এন্ড স্ট্যাটিসটিকস’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালে এ পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার সুইস ফ্রাঁ, যা ২০২৩ সালে নেমে এসেছিল মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ ১৩ হাজার সুইস ফ্রাঁতে। এর আগে ২০২২ সালে আমানত ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার সুইস ফ্রাঁ। তবে ২০২১ সালে এ পরিমাণ বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। আর ২০২০ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৩ হাজার সুইস ফ্রাঁ।
সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, কোনো বাংলাদেশী যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ব্যবহার করে বা নিজের জাতীয় পরিচয় গোপন রেখে অর্থ জমা করে থাকেন, তাহলে সেই অর্থ এ পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয় না। একইভাবে গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের আর্থিক মূল্যমানও এ হিসাবের বাইরে থাকে। প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক মোট আমানতের তথ্য প্রকাশ করা হয়, তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে কত অর্থ রয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়া হয় না।
বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা হয়; পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সেখানে আমানত রাখেন। সুইস ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের অর্থ সংরক্ষণের জন্য এ দেশকে বেছে নেয়। ধনীদের অর্থ গচ্ছিত রাখার অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে সুইজারল্যান্ডের পরিচিতি বহুদিনের। দেশটির ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পরিচয় ও হিসাবসংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখে। এ কারণে ধারণা করা হয়, বিভিন্ন দেশের অপ্রদর্শিত আয় বা বিদেশে স্থানান্তরিত সম্পদের একটি অংশ সুইস ব্যাংকে জমা থাকে। যদিও নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ করা হয় না, তবে দেশভিত্তিক সমষ্টিগত তথ্য প্রতি বছর প্রকাশ করে এসএনবি।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে ভারতীয় নাগরিকদের জমা করা অর্থ ২০২৫ সালে কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালে ভারতীয়দের আমানতের পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি ৪২ লাখ ৪৬ হাজার সুইস ফ্রাঁ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৩ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার সুইস ফ্রাঁতে। এর আগে ২০২৩ সালে ভারতীয়দের আমানত ছিল ১০২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার সুইস ফ্রাঁ। অন্যদিকে পাকিস্তানি নাগরিকদের আমানতের পরিমাণও কমেছে। ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোয় পাকিস্তানিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ১৬ লাখ ৭৩ হাজার সুইস ফ্রাঁ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁতে। ২০২৩ সালে পাকিস্তানিদের আমানত ছিল ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬৭ হাজার সুইস ফ্রাঁ এবং ২০২২ সালে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ।
সুইজারল্যান্ডের আইনে ব্যাংকগুলো সাধারণত গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশে বাধ্য নয়, আর এই গোপনীয়তার নীতির কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সেখানে অর্থ জমা রাখে। কোন দেশের নাগরিকদের কত পরিমাণ অর্থ সুইস ব্যাংকগুলোতে রয়েছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র প্রতি বছর এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব সমষ্টিগত তথ্য প্রকাশ করা হলেও, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত পরিচয় বা হিসাবসংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



