ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক নতুন অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক সাবেক অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করে ঘোষিত নতুন কমিটির কার্যকারিতার ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আদালতের এই আদেশের কপি নিয়ে ফেডারেশন কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে বাধা পেয়েছেন সাবেক কমিটির সদস্যরা। ফলে শুটিং স্পোর্টস প্রাঙ্গণে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ, বাকবিতণ্ডা ও চরম প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা।
ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটে চলতি বছরের ১৮ জুলাই। ওই দিন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এক সরকারি চিঠির মাধ্যমে শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের তৎকালীন দায়িত্বরত অ্যাডহক কমিটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে কার্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর করে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও একপেশে দাবি করে সংক্ষুব্ধ হন আগের অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা। তারা আদালতের দ্বারস্থ হন এবং সিদ্ধান্তটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে এবং উপস্থাপিত নথিপত্র ও অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে হাইকোর্ট পূর্ববর্তী কমিটির স্বপক্ষে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আদালত ১৮ জুলাই জারি করা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনার কার্যকারিতা আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে কারণ দর্শানোর রুল জারি করেন। বিচারিক এই আদেশের ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় আগের অ্যাডহক কমিটিই পুনরায় প্রশাসনিকভাবে বৈধতা লাভ করে।
আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরেজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে তপ্ত রোদের মধ্যে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের প্রধান ফটকের সামনে এক যুবককে আদালতের আদেশের কপি হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়। ফেডারেশন ভবনের ভেতরে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড ও আনসার সদস্যরা অবস্থান করলেও তারা মূল ফটকের তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন পূর্ববর্তী অ্যাডহক কমিটির শীর্ষ নির্বাহী ও সদস্যবৃন্দ। আইনি আদেশ প্রদর্শনের পরও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা মূল ফটক খুলতে রাজি না হলে সাবেক কমিটির সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ ফটকের বাইরেই অবস্থান করতে হয় সাবেক কর্তাদের। কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা এবং গেটের সামনে দাঁড়িয়েই প্রশাসনিক এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান।
হাইকোর্টের আদেশের কপি হাতে নিয়ে এসে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক কমিটির কর্মকর্তারা। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।
পূর্ববর্তী কমিটির নির্বাহী সদস্য মো. দাইয়ান নাফিজ গণমাধ্যমকে বলেন, "আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা লোকবল নিয়ে এখানে আসি নাই। আমরা অত্যন্ত সাধারণ ও নিয়মমাফিক উপায়ে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে দেখা করে হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট আদেশটি হস্তান্তর ও আলোচনা করতে এসেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি পরিষ্কার করে সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে দায়িত্ব বুঝিয়ে নেওয়া। কিন্তু যেভাবে গেট বন্ধ করে আমাদের আটকে দেওয়া হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আদালত অবমাননার শামিল।"
পুরো বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কার্যালয়ে খোঁজ নেওয়া হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আইনি পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তারা বিষয়টির আইনি দিক খতিয়ে দেখছেন। তিনি বলেন, "হাইকোর্টের রিট এবং স্থগিতাদেশের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। ওনারা আদেশের কপি নিয়ে এসেছেন। এ সংক্রান্ত আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা ও কাজের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনেই যা করার করা হবে।"
অন্যদিকে, প্রবেশে বাধা ও আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়ে কথা বলতে বর্তমানে অবস্থানরত অ্যাডহক কমিটির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কারো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশের ফলে সদ্য গঠিত অ্যাডহক কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি এখতিয়ার হারিয়েছে। তবে আইনি বিধান অনুযায়ী, আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সামনে সময় রয়েছে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা লিভ টু আপিল দায়ের করার। বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও আপিল আবেদনের ওপরই নির্ভর করছে ঐতিহ্যবাহী এই আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ফেডারেশনের প্রশাসনিক ভবিষ্যত।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



