ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় সংসদ ভবনে ১৫ মিনিট অবস্থান করেন মিষ্টি। সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় তাঁর হাতে একটি ফাইল ছিল, তবে খালি হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি।
এর আগে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
মিষ্টির বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ভাঙার অভিযোগ ওঠার পরই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সরকার। এরই মধ্যে সরকারপ্রধান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
দলীয় কোনো এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এত দ্রুত তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা অতীতে বিরল।
মিরপুরের স্থানীয় রাজনীতি থেকে উঠে আসেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আলোচনায়ও ছিল তাঁর নাম।
এর আগে স্থানীয় সরকার রাজনীতিতেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
মিরপুরের শাহআলী এলাকার সাবেক কমিশনার হিসেবে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব তৈরি হয়। পরে মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেন তিনি।
তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ও দীর্ঘদিনের। তাঁর ভাই প্রয়াত নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
রাড্ডা সেন্টার নিয়ে বর্তমান বিরোধের সঙ্গে মিষ্টির প্রায় দুই দশক আগের একটি যোগসূত্র সামনে আসে। জানা গেছে, ২০০৬ সালে শাহআলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার থাকাকালে মিষ্টি ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি ছিলেন। রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি সমিতির নামে বরাদ্দ চাওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ও স্বাক্ষর থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে ওই সমিতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলে মিষ্টি দাবি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সমিতির কার্যক্রমে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নাম এসেছে। তাঁরা মিষ্টির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সঙ্গে আমার নামের পুরনো সম্পর্ক থাকলেও বর্তমান ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে।’
উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেবে।
রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এ ঘটনার মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান মিষ্টির : ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত কাউন্সিলর সাইদুর রহমান নিউটনের সহধর্মিণী। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতা মরহুম নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর বোন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি।
মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ২০০২ সালের ১০ মে ধানমণ্ডি অর্কিড প্লাজার সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। মিষ্টির ভাই ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে মারা যান। সে সময় কারাগারে তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুকে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। পিন্টুর ছোট ভাই নাসিম উদ্দিন রিন্টু রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলা করেন।
অন্যদিকে নিউটন নিহত হওয়ার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকায় গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাঁকে অন্তত ২০টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হতে হয়। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে। পরবর্তী সময়ে তিনি কলেজ ছাত্রসংসদের এজিএস নির্বাচিত হন।
মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি, আজ থেকেই কার্যকর—স্পিকার : সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। পদত্যাগপত্রটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলেও জানান স্পিকার। গতকাল জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্পিকার।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের ২৩ নম্বর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দিয়ে গেছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পত্রটি পাওয়ার পরই তাঁর পদ শূন্য হয়ে গেছে। আমরা এটি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেব। আজ (গতকাল) থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।’
পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদের বিধান হলো, এমপিরা যখন পদত্যাগ করেন তখন কোনো কারণ উল্লেখ করেন না।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মিষ্টির পদত্যাগ : অ্যাটর্নি জেনারেল : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মিষ্টির পদত্যাগ এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যে তুলনা টেনে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘জামায়াত না পারলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেরেছেন। এখানে মেসেজ একদম ক্লিয়ার।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করেছে। শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। অন্যদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যে অবস্থান নিয়েছেন, তাতে নিজ দলীয় একজন সংসদ সদস্য তাঁর পদ হারালেন। এটা একটা বিরাট ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ছাড়া একটি দেশে সামগ্রিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ থাকে, তাঁরা নিজেদের দলের লোকজনের কোনো অপরাধ আড়াল করেন কিংবা তাঁদের প্রশ্রয় দেন। মিষ্টির পদত্যাগ এ ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার একটি বার্তা পাওয়া গেছে।’
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আপনি যত ভালো কাজই করেন না কেন, আপনার একটা খারাপ কাজ আপনার অনেক ভালো অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে। আমার ধারণা, প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন না যে তাঁর এত অর্জনের মধ্যে কেউ নেতিবাচক কিছু দিয়ে ম্লান করার সুযোগ পাক। ইটস এ ভেরি ক্লিয়ার মেসেজ।’
মিষ্টির পদত্যাগ শুধু একটি দলের নেতাকর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও একটি বার্তা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে।’
তবে মিষ্টির সংসদ সদস্যপদ শূন্য হলেও পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণে তিনি অযোগ্য হবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
গ্রেপ্তার হতে পারেন নেপথ্যের ১৬ কুশীলব : বহুল আলোচিত রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের চেষ্টার ঘটনা তদন্তে স্থানীয় রাঘব বোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসছে। এর মধ্যে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার কথা বলছে পুলিশ। গতকাল সংসদের সংরক্ষিত (নারী আসন-৩) থেকে পদতাগ করার পর তাঁর বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এজাহারনামীয় আসামি হানিফ মিয়াসহ ওই এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্মে জড়িত অন্তত ১৬ জনের বিরুদ্ধে জোরালো তদন্ত চলছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে এরই মধ্যে রাজনৈতিক পদবি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
গতকাল এ তথ্য জানান মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এই ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজনে এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১৫ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমপির নামও এসেছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। নেপথ্যের কুশীলবদের নাম ও এতে সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে যাচাই চলছে। সন্দেহভাজনসহ এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে।’
জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় যারা : রাড্ডায় হামলার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ বলছে, এ ঘটনার নেপথ্যে মোস্তফা জগলুল পাশা (পাপেল), হানিফ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ লেলিন (শ্যুটার লেলিন), সাব্বির হোসেন সজীব, হাফিজুর রহমান হাফিজ, খলিল চৌধুরী (ফর্সা খলিল), কাটিং সুমন, আক্তার হোসেন মামুন, শ্যামল আহমেদ রাসেল, (টোকাই রাসেল), রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, সারোয়ার আলম পিয়াস, সোহেল (ভাই সোহেল), গোলাম রসুল পারভেজ, আওলাদ হোসেন (টুডা রাসেল), শাফায়েত রাব্বি আরাফাত (টাকলা আরাফাত) ও হাফিজুর রহমান শুভ্রসহ (কানা শুভ্র) ১৬ জন সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ঘিরে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মা ও শিশু স্বাস্থকেন্দ্র রাড্ডার পুরো মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরা—জানিয়ে মিরপুরের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিও এর দায় এড়াতে পারেন না। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা (পাপেল) এই হামলার নেপথ্যে বড় ভূমিকায় ছিলেন। আর হামলা-ভাঙচুরের সময় পুরো বিষয়টি তদারকি করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ লেলিন। লেলিন সব সময় অস্ত্র সঙ্গে রাখেন বলে অভিযোগ। তিনি শ্যুটার লেলিন নামেও পরিচিত।
সূত্র জানায়, কাফরুল থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাব্বি ঘটনার রাতে ৪০ থেকে ৫০ জন হামলাকারীকে সেখানে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল আহমেদ রাসেলও এ ঘটনায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তদন্তে দোষ পেলে মিষ্টির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



