ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। অবশেষে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে বিসিবি নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এবারের বহুল প্রতীক্ষিত বিসিবি নির্বাচন। দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নির্বাচনী আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ক্রিকেটাঙ্গন থেকে শুরু করে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা তুঙ্গে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের প্রধান এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। তার নেতৃত্বেই এবারের পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। ওই দিনই প্রকাশিত হবে বিসিবির খসড়া ভোটার তালিকা। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে ১ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা। একই দিনে বিকালে বিসিবির ওয়েবসাইটে পোস্টাল বা ই-ব্যালট আপলোড করে দেওয়া হবে, যাতে ভোটাররা নির্ধারিত সময়ে ভোট দিতে পারেন।
সবশেষে মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৬ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ওই দিনই বিসিবির পরিচালক পদের জন্য ভোট দেওয়া হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে সেদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে।
পরিচালক নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই শুরু হবে বিসিবির শীর্ষ নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী—
-
সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সভাপতি ও সহসভাপতির নির্বাচন।
-
রাত ৯টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
অর্থাৎ একই দিনে বিসিবি পাবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ এবং সভাপতি-সহসভাপতি।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে আগে কাউন্সিলর হতে হয়। সাধারণত বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনীত করা হয়। তাদের ভোটে নির্বাচিত হন ২৫ জন পরিচালক। এরপর এই নির্বাচিত পরিচালকরা ভোট দিয়ে বেছে নেন বোর্ডের সভাপতি ও সহসভাপতি।
সর্বশেষ নির্বাচনে কাউন্সিলরের সংখ্যা ছিল ১৭০ জন। এবারও সেই সংখ্যার কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, ক্রিকেট ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবেই কাউন্সিলররা মনোনীত হন।
বিসিবি নির্বাচনকে ঘিরে সব সময়ই থাকে তীব্র আগ্রহ, কারণ এখান থেকেই গড়ে ওঠে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের রূপরেখা। বোর্ড পরিচালনার নীতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, খেলোয়াড়দের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা বড় সিদ্ধান্ত নির্ভর করে নতুন নির্বাচিত নেতৃত্বের ওপর।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় আছে বেশ কিছু বিষয়। ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, লিগ কাঠামোর সংস্কার, ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির মতো ইস্যুতে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
আগামী ৬ অক্টোবরের নির্বাচন শেষে বাংলাদেশের ক্রিকেট পাবে নতুন প্রশাসন। এই নির্বাচন শুধু বোর্ডের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে না, বরং আগামী কয়েক বছরের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের গতিপথও ঠিক করে দেবে। তাই খেলাপ্রেমীদের চোখ এখন শুধু বিসিবি নির্বাচনের দিকে—কারা আসছেন নেতৃত্বে, আর কাদের হাতে উঠছে দেশের ক্রিকেটের হাল।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



