ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক-নির্বাচনী প্রতিনিধি দল। এই বৈঠককে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে পর্যবেক্ষকরা।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের সঙ্গে সবসময়ই আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশের নির্বাচনও তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়—সে জন্য তারা ইসির সঙ্গে কাজ করবে।”
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইইউ দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। শুধু ভোটের দিন নয়, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই তারা গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
ইসি সচিব জানান, ইইউ শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবেই নয়, বরং নির্বাচনী শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুধীসমাজকে সম্পৃক্ত করার মতো নানা ক্ষেত্রেও কাজ করবে। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো দেখা দিচ্ছে—ডিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য), মিসইনফরমেশন (ভ্রান্ত তথ্য) এবং সাইবার-সংক্রান্ত সমস্যা—সেসব মোকাবিলায় ইইউ বিশেষভাবে আগ্রহী।
এ ছাড়া নির্বাচনী সচেতনতা তৈরি, ভোটারদের আস্থা বাড়ানো এবং ইসির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে ইইউ বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনকে চার মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই অর্থ নির্বাচন-সম্পর্কিত কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদারে কাজে লাগানো হবে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই সহায়তা শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বরং মাঠপর্যায়ের ভোটকেন্দ্রগুলোতেও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির আশা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এ বৈঠক ইসির সঙ্গে ইইউর এ ধরনের প্রথম আলোচনা নয়। এর আগে গত ১৯ আগস্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময়ও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
নতুন করে যে প্রতিনিধি দল এসেছে, তারা প্রাক-নির্বাচনী বাস্তবতা যাচাই করবে। মূলত, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের মাত্রা নিয়ে তারা তথ্য সংগ্রহ করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউ প্রতিনিধি দলের এই বৈঠক বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ ও নজরদারির প্রমাণ বহন করছে। বিশেষ করে যখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তখন ইইউর সক্রিয় ভূমিকা নির্বাচন কমিশনের জন্যও ইতিবাচক বার্তা।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে ইইউ সব সময়ই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী থাকে। এবারের নির্বাচনে তারা আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে চাইছে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও প্রত্যাশা করছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যাতে সমান সুযোগ পায়, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচন শেষে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে—এসব দিকেই জোর দিচ্ছে ইসি ও ইইউ।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ইইউর সহযোগিতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করতে যা শুধু দেশের মানুষের কাছেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গ্রহণযোগ্যতা পাবে।”
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



