ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ছয়টি দল আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণদের অংশগ্রহণে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি পুরনো দল। নিবন্ধন অনুমোদনের পর খুব শিগগিরই এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে কমিশন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) কমিশনের কাছে নিবন্ধন সংক্রান্ত ফাইল উপস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। কমিশনের বৈঠকে আলোচনা ও অনুমোদনের পরই নিবন্ধনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলোর নাম ঘোষণা করা হবে।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসি এখনই কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগসহ মোট ছয়টি দলকে নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, “আমরা এখনো নিবন্ধিত দলগুলোর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করিনি। কমিশনের সভায় আলোচনার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। প্রস্তাবিত তালিকায় কিছু সংযোজন-বিয়োজন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।”
উল্লেখ্য, এবার মোট ২২টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র ছয়টি দলকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দলের সাংগঠনিক কাঠামো, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সক্রিয়তা, সদস্যসংখ্যা, রাজনৈতিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং সংবিধান পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার মাধ্যমে কমিশন একদিকে যেমন অবাস্তব বা কাগুজে দলগুলোকে বাদ দিয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রক্ত সঞ্চারের সুযোগও তৈরি করেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণদের নিয়ে গঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ দলটি বিশ্ববিদ্যালয়, সোশ্যাল মিডিয়া এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির নিবন্ধন তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয় লীগ এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মতো পুরনো দলগুলোও এবার নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী দলের পুনরাগমন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৪। নতুন ছয়টি দল যুক্ত হলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০-এ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে নিবন্ধন পাওয়া দলগুলোর জন্য এটি নতুন সম্ভাবনা, অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে। এর ফলে ভোটারদের সামনে বিকল্পও তৈরি হবে।
সবকিছু নির্ভর করছে ইসির আজকের (সোমবার) কমিশন বৈঠকের ওপর। সেখানে নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসি সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত তালিকায় যেকোনো পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে, তবে মূলত এনসিপি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নাম তালিকায় থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন দলগুলোর নিবন্ধন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বৈচিত্র্য ও প্রাণচাঞ্চল্য আনবে। তবে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সংগঠন বিস্তার, জনগণের আস্থা অর্জন এবং টেকসই রাজনৈতিক কর্মসূচি উপস্থাপন করা। নিবন্ধন শুধু সুযোগ, কিন্তু প্রকৃত শক্তি অর্জন করতে হলে দলগুলোকে মাঠপর্যায়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



