ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরকে শুধু কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান শক্ত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রোববার দিনগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিমানবন্দরে যাত্রার সময় সরকারি প্রতিনিধিদল এবং কিছু বিদেশি কূটনীতিকও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। এই প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভিন্ন মত ও ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের নেতারা একসঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন।
প্রতিনিধিদলের তালিকায় আছেন—
-
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
-
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির
-
জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর সায়ীদ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের
-
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্যসচিব আখতার হোসেন
-
এনসিপির প্রথম সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা
এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ নকীবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন অধ্যাপক ইউনূস। তার ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
এছাড়া তিনি উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন সাইডলাইন বৈঠকে যোগ দেবেন, যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সফরকে বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক মহলে দৃঢ় করার প্রচেষ্টা থাকবে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহল মনে করছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে এই সফর প্রমাণ করবে যে, অন্তর্বর্তী সরকার শুধু দেশের ভেতরে নয়, বৈশ্বিক পরিসরেও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামোকে তুলে ধরতে চাইছে।
প্রধান উপদেষ্টার ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তার এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



