ছবি: সংগৃহীত
রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, করদাতার জন্য সেবা সহজীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব প্রশাসনকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব খাতে ১২টি বড় সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং কাস্টমস—এই তিনটি প্রধান রাজস্ব খাতকে কেন্দ্র করে আইনগত পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা, তথ্য সমন্বয়, স্বয়ংক্রিয় সেবা এবং করদাতাবান্ধব ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯’ শীর্ষক পর্যালোচনায় এসব উদ্যোগের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অভ্যন্তরীণ রাজস্বের অবদান বাড়াতে কর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার এমন একটি কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কর আদায় হবে তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এবং একই সঙ্গে করদাতাদের জন্য সেবাও হবে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ।
আয়কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সরকার প্রথমেই আইনগত ও নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৩ সালের আয়কর আইন কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে দেশের প্রত্যক্ষ কর কাঠামোকে আরও সহজবোধ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্মত এবং বাস্তবমুখী করার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। নতুন আইনটি করদাতাদের জন্য অনুসরণযোগ্য বিধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর প্রশাসনের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে আইনটির আনুষ্ঠানিক ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করা হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কর-সংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ আরও সহজ হয়ে ওঠে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের করব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরের কারণে আয়কর ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের বর্ধিত সময়সীমা শেষে দেশে নিবন্ধিত টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে দাখিল হওয়া আয়কর রিটার্নের সংখ্যা প্রায় ৪৩ লাখে উন্নীত হয়েছে, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সরকার মনে করছে, অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ, রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবার সঙ্গে কর রিটার্নের সংযোগ স্থাপনের ফলে করদাতাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৫ অর্থবছর থেকেই ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করায় অনেক নতুন করদাতা করজালের আওতায় এসেছেন। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ কর সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এবং স্বেচ্ছায় কর পরিশোধে মানুষের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স জোরদারে আয়কর প্রশাসনে আরও কয়েকটি নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৩ লাখ ই-রিটার্ন অনলাইনে জমা পড়েছে। চালু হয়েছে ‘কর প্রতিনিধি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’, যার মাধ্যমে অনুমোদিত কর প্রতিনিধিরা অনলাইনে করদাতাদের পক্ষে সহজে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এখন সম্পূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে সক্ষম হচ্ছেন। এছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ই-চালানে কর পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় করের অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে, ফলে সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমেছে।
তথ্য সমন্বয় ব্যবস্থাকেও আধুনিক করা হয়েছে। এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড এবং ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে তথ্য সংযোগ স্থাপনের ফলে আমদানি পর্যায়ে পরিশোধ করা অগ্রিম আয়কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হচ্ছে। একই সঙ্গে করদাতার ঘোষিত আয় এবং আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য সহজেই মিলিয়ে দেখা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, সুদ থেকে অর্জিত আয়, উৎসে কর কর্তনের তথ্য এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর ফাঁকি শনাক্ত করা যেমন সহজ হবে, তেমনি করদাতাদেরও আলাদাভাবে এসব তথ্য সংযোজনের প্রয়োজন কমে যাবে।
কর নিরীক্ষা ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিবেচনায় রিটার্ন নির্বাচন করা হতো, সেখানে এখন প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ করবর্ষে ১৫ হাজার ৪৯৪টি রিটার্ন সম্পূর্ণ র্যান্ডম পদ্ধতিতে এবং ৭২ হাজার ৩৪১টি রিটার্ন ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। ম্যানুয়াল নির্বাচন পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কমেছে এবং তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে সরকার মনে করছে।
অন্যদিকে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ব্যবস্থায়ও বিস্তৃত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনের মাধ্যমে ভ্যাটযোগ্য কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাট নিবন্ধনের সীমা ৩ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা এবং টার্নওভার করের সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগে ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিবন্ধিত ভ্যাটদাতার সংখ্যা ৫ লাখ থেকে বেড়ে ৮ লাখে উন্নীত হয়েছে। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে করজাল আরও সম্প্রসারিত হবে এবং ভ্যাট আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে ভ্যাট অনলাইন সিস্টেম ১৪টি সমন্বিত মডিউলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব মডিউলের আওতায় রয়েছে অনলাইন নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা, মামলা পরিচালনা, নথি সংরক্ষণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম। ফলে ভ্যাট প্রশাসনের অধিকাংশ সেবা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে প্রায় সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব ইআরপি সফটওয়্যার থেকে সরাসরি ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারছে। পাশাপাশি ই-চালান ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে কর পরিশোধও পুরোপুরি ডিজিটাল হয়েছে এবং আইবাস++ এর সঙ্গে তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ভ্যাট নিরীক্ষা ব্যবস্থাকেও ঝুঁকিভিত্তিক করা হয়েছে। বর্তমানে ২০টি ঝুঁকি সূচকের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার আওতায় ইতোমধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে ফেরত অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে বলে সরকার আশা করছে।
কাস্টমস খাতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বর্তমানে ১৯টি সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি সনদ, লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু করা হয়েছে। এতে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে সময় কমেছে এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ও সহজ হয়েছে।
অনুমোদিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) ব্যবস্থা চালুর ফলে দ্রুত কাস্টমস ছাড়, দ্বৈত ডেলিভারি সুবিধা এবং কম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাসের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এইচএস কোড সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে স্বয়ংক্রিয় শ্রেণিকরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা পণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর ফলে বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনলাইনে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছে। একই সঙ্গে এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিজিএমইএর ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে চালান যাচাই, কার্গো ব্যবস্থাপনা, আমদানি-রপ্তানি তথ্য বিশ্লেষণ এবং রপ্তানি পণ্য ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ হয়েছে।
বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করতে এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডভিত্তিক ডিজিটাল নিলাম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের স্থলবন্দরগুলোতে ট্রাক চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য ট্র্যাক মুভমেন্ট মডিউল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ছে।
রাজস্ব প্রশাসনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার গঠন করা হয়েছে, যা কর ও কাস্টমস ব্যবস্থার ডিজিটাল অবকাঠামোকে সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা, নতুন সিঅ্যান্ডএফ ও শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা প্রণয়ন এবং ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এসব সংস্কার উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো করজাল সম্প্রসারণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ফাঁকি ও অনিয়ম হ্রাস, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সরকার আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক এই আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



