ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মচারীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ও আনন্দদায়ক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের মাসিক ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম।
তবে গেজেটে নতুন নির্ধারিত ভাতার হার কার্যকরের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কর্মচারীরা এই বর্ধিত হারে ঝুঁকি ভাতা পাবেন। নতুন নির্ধারিত সময়সীমা কার্যকর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কর্মচারীরা ২০১৮ সালের ২০ আগস্টের আদেশ অনুযায়ী বিদ্যমান হারেই ভাতা গ্রহণ করবেন।
ভাতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট ও কাঠামোগত পরিবর্তন
দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের ঝুঁকিপূর্ণ প্রকৃতি বিবেচনা করে ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট সরকার প্রথমবারের মতো একটি নির্দিষ্ট স্কেলে ঝুঁকি ভাতা চালু করেছিল। তবে বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি বিবেচনায় এনে অর্থ বিভাগ পূর্বের হারের তুলনায় নতুন হারে এই ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে কর্মচারীদের চাকরির সময়সীমাকে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ধাপে ভাগ করে ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে: ১. ৫ বছর এবং তার কম ২. ৫ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর ৩. ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর ৪. ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর ৫. ২০ বছরের বেশি
গ্রেড ও চাকরির বয়সভিত্তিক বিস্তারিত পরিবর্তন
আগের আদেশের তুলনায় নতুন আদেশে প্রতিটি গ্রেড ও চাকরির বয়সের ধাপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভাতা বাড়ানো হয়েছে। নিচে বিভিন্ন গ্রেডের পরিবর্তনসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড:
-
গ্রেড-১০: ৫ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে আগে মিলত ২,৭০০ টাকা, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,২৪০ টাকা (বৃদ্ধি ৫৪০ টাকা)। ৫ থেকে ১০ বছরের ক্ষেত্রে ৩,২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩,৮৪০ টাকা; ১০ থেকে ১৫ বছরের ক্ষেত্রে ৩,৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪,৫৮০ টাকা; ১৫ থেকে ২০ বছরের ক্ষেত্রে ৪, ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫,৪০০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি চাকরির বয়সে ৫,৪০০ টাকার স্থলে এখন পাওয়া যাবে ৬,৪৮০ টাকা।
-
গ্রেড-১১: ৫ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ভাতা ২,২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৬৪০ টাকা হয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে যথাক্রমে ২,৭০০ টাকা থেকে ৩,২৪০ টাকা; ৩,২০০ টাকা থেকে ৩,৮৪০ টাকা; ৩,৮০০ টাকা থেকে ৪,৫৬০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি হলে ৪,৬০০ টাকার স্থলে মিলবে ৫,৫২০ টাকা।
-
গ্রেড-১২: শুরুতেই ৫ বছর বা তার কম মেয়াদে ২,১০০ টাকার জায়গায় ২,৫২০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। অন্যান্য ধাপে যথাক্রমে ২,৫০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা; ৩,০০০ টাকা থেকে ৩,৬০০ টাকা; ৩,৬০০ টাকা থেকে ৪,৩২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৪,৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫,২৮০ টাকা করা হয়েছে।
-
গ্রেড-১৩: সর্বনিম্ন ধাপে ১,৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,২৮০ টাকা করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে যথাক্রমে ২,৩০০ টাকা থেকে ২,৭৬০ টাকা; ২,৮০০ টাকা থেকে ৩,৩৬০ টাকা; ৩,৪০০ টাকা থেকে ৪,০৮০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি চাকরির অভিজ্ঞতায় ৪,০০০ টাকার বদলে মিলবে ৪,৮০০ টাকা।
১৪তম থেকে ১৮তম গ্রেড:
নতুন প্রজ্ঞাপনে গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-১৮ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্যও চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্পষ্ট ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
-
গ্রেড-১৪: অভিজ্ঞতাভেদে সর্বনিম্ন ২,১৬০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৪,৫৬০ টাকা পর্যন্ত।
-
গ্রেড-১৫: সর্বনিম্ন ২,০৪০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৪,০৮০ টাকা।
-
গ্রেড-১৬: সর্বনিম্ন ১,৯২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩,৮৪০ টাকা।
-
গ্রেড-১৭: সর্বনিম্ন ১,৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩,৬০০ টাকা।
-
গ্রেড-১৮: সর্বনিম্ন ১,৬৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩,৩৬০ টাকা।
১৯তম ও ২০তম গ্রেড:
-
গ্রেড-১৯: ৫ বছর বা তার কম মেয়াদে ভাতা ১,৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৫৬০ টাকা হয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে যথাক্রমে ১,৬০০ টাকা থেকে ১,৯২০ টাকা; ১,৯০০ টাকা থেকে ২,২৮০ টাকা; ২,৩০০ টাকা থেকে ২,৭৬০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি হলে ২,৭০০ টাকার স্থলে ৩,২৪০ টাকা করা হয়েছে।
-
গ্রেড-২০: প্রাথমিক ধাপে ১,২০০ টাকার পরিবর্তে ১,৪৪০ টাকা পাবেন কর্মচারীরা। পরবর্তীতে ৫ থেকে ১০ বছরে ১,৫০০ টাকা থেকে ১,৮০০ টাকা; ১০ থেকে ১৫ বছরে ১,৮০০ টাকা থেকে ২,১৬০ টাকা; ১৫ থেকে ২০ বছরে ২,২০০ টাকা থেকে ২,৬৪০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি চাকরির বয়সে ২,৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিগত শর্তাবলী
প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ভাতার আর্থিক হিসাবের পাশাপাশি একটি বিশেষ নীতিগত শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, প্রেষণে (Deputation) এসে দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োজিত কোনো কর্মচারী যদি নতুন নির্ধারিত এই ঝুঁকি ভাতা গ্রহণ করেন, তবে তিনি স্ব-স্ব মূল বাহিনী বা মূল সংস্থার জন্য নির্ধারিত অন্য কোনো ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) দাবি বা গ্রহণ করতে পারবেন না। অর্থাৎ প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের যেকোনো একটি ক্ষেত্র থেকে ঝুঁকি সংক্রান্ত ভাতা বেছে নিতে হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



