ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশে অনিয়ম, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ আগামী ১০ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে দুদক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলাটিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী, আমলা এবং সিএনএস লিমিটেডের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। এতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম এবং প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল রয়েছেন।
এছাড়া ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবালকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলমান টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ দুদকের।
অভিযোগে বলা হয়, সিএনএসকে নির্দিষ্ট অর্থের পরিবর্তে সেতু থেকে আদায় করা মোট টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকা বিল হিসেবে গ্রহণ করে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে থাকা এমবিইএল-এটিটির পেছনে ব্যয় হয়েছিল ১৫ কোটির কিছু বেশি টাকা।
অন্যদিকে, ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকার চুক্তি পায়। পাঁচ বছরের হিসাবে এ ব্যয় প্রায় ১১২ কোটি টাকা হতো বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তুলনামূলক হিসাবের ভিত্তিতে দুদকের অভিযোগ, সিএনএসকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তি দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য হওয়ায় ওই দিন তদন্তের অগ্রগতি এবং আসামিদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে কী তথ্য এসেছে, তা আদালতে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



