ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করেছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা, বাতাসের গতিবেগ বাড়ছে, আর সেই প্রেক্ষাপটেই এদিন দুপুর ১টা পর্যন্ত কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে থাকতে পারে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। ফলে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. নাজমুল হকের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এটি মূলত একটি বায়ুচাপের তারতম্যজনিত প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া। এ ধরনের ঝড় বেশিরভাগ সময়েই হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়ে অল্প সময়ে প্রচণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে, বিশেষ করে নৌপথ ও খোলা স্থানে।
ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে নিম্নোক্ত ১০টি জেলার ওপর দিয়ে— ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সাতক্ষীরা (সংলগ্ন অঞ্চল) (স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে)।
এই জেলাগুলোতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ ভারী হয়ে আসতে পারে, এবং হঠাৎ বজ্রপাতসহ দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঝড়ের সম্ভাবনা থাকায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। এই সতর্কতা নৌচালক ও সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট আকারের নৌযান, ট্রলার এবং মাছ ধরার নৌকা চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সতর্ক সংকেত কার্যকর থাকা অবস্থায় ছোট নৌযানগুলোকে নৌপথে চলাচল না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
এই ধরনের দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সময় খোলা মাঠে বা জমিতে কাজ করা কৃষকদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। হঠাৎ বজ্রপাত ও শক্তিশালী বাতাস ফসলের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে সবজির ক্ষেত ও পাকা ধানের জমিতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গাছপালা উপড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বে এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরীর বাসিন্দাদের জন্যও দুপুরের আগে কিছু সময় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। যারা রাস্তায় বের হবেন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সাইকেল বা রিকশা চালক, তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে অবকাঠামোগত দুর্বল জায়গা, নির্মাণাধীন ভবনের পাশ, পুরনো গাছের নিচে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া অনেকে যেহেতু দুপুরের নামাজের সময় মসজিদে যাচ্ছেন, তাদের বজ্রপাতের সময় নিরাপদ অবস্থানে আশ্রয় নেয়ার পরামর্শও রয়েছে।
বিগত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়া দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হলো মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ। বিশেষ করে উত্তর বঙ্গোপসাগরে চাপের তারতম্য ও নিম্নচাপের সম্ভাবনা থাকায় বাতাসের গতিবেগ হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে নদীবন্দর সংলগ্ন জেলাগুলোতে এ ধরনের সতর্কতা জারি করতে হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, “এটি একটি স্বল্পস্থায়ী আবহাওয়া বিরূপতা হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যারা এসব অঞ্চলে বাস করেন, বিশেষ করে যারা নদীপথে চলাচল করেন, তাদের উচিত স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।”
সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ, বৈদ্যুতিক তার ও উঁচু গাছপালা থেকে দূরে থাকা, নদীপথে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা বাতিল করা এবং বৃষ্টির সময় খোলা স্থানে না থাকা—এসবই সাধারণ নাগরিকদের জন্য জরুরি করণীয়।
দুপুর ১টার মধ্যে ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হলেও, প্রকৃত সময় এবং গতিবিধি নির্ভর করছে স্থানীয় আকাশ-পরিবর্তনের গতিপ্রবাহের ওপর। তাই সার্বক্ষণিক আবহাওয়া আপডেট জানতে চোখ রাখুন আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



