ছবি: সংগৃহীত
গাজায় কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হামাসের পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ইসরাইল। বুধবার দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেরুজালেমের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাসের দেওয়া নতুন প্রস্তাবটি মূলত তাদের আগের প্রতিক্রিয়ার একটি হালনাগাদ সংস্করণ।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে হামাস একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছিল, যা তাত্ক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন আরব দেশভিত্তিক মধ্যস্থতাকারীরা। তারা ওই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে শেয়ার করতেও অস্বীকৃতি জানায় এবং হামাসকে একটি আরও গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক খসড়া জমা দিতে আহ্বান জানায়।
এরপর হামাস নতুনভাবে প্রস্তাব প্রস্তুত করে এবং পূর্বের কিছু শর্ত ও দাবি বাদ দেয়। ইসরাইলি কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, এই পরিবর্তনগুলো হামাসের অবস্থানে কিছু নমনীয়তা আনার ইঙ্গিত দিলেও, ইসরাইল এখনো পুরো প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখছে এবং আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হামাস জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইসরাইলের যে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব ছিল, তার ভিত্তিতেই তারা নিজেদের প্রতিক্রিয়া হালনাগাদ করে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জমা দিয়েছে। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া এই প্রতিক্রিয়া টেলিগ্রামে একটি বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে দলটি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিবৃতিতে হামাস যে প্রতিক্রিয়ার কথা বলছে, সেটি মঙ্গলবার রাতে জমা দেওয়া আগের প্রতিক্রিয়াই কিনা তা পরিষ্কার নয়, কারণ ওই সময় দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে নতুন প্রতিক্রিয়া এবং পুরোনোটির মধ্যে পার্থক্য এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
মঙ্গলবার রাতে যেটি হামাস মধ্যস্থতাকারীদের কাছে দিয়েছিল, সেটিকে আরব মধ্যস্থতাকারীরা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, সেখানে এমন কিছু নতুন দাবি সংযোজন করা হয়েছিল, যেগুলো গ্রহণযোগ্য ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারীরা হামাসকে আরও বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া দিতে বলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এরপরই হামাস তাদের পূর্বের দাবিগুলোর কিছু পরিমার্জন করে নতুনভাবে প্রস্তাব তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, গাজা পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে গড়াচ্ছে। শতাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও দাতব্য সংগঠন জানিয়েছে, গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক মাত্রায় অনাহার দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি ইতোমধ্যেই তাদের কর্মীদের গাজা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।
এই সবকিছুর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্যতা আশার আলো হয়ে দেখা দিলেও, ইসরাইল এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত শান্তি আসবে কিনা। আপাতত, উভয় পক্ষের হালনাগাদ অবস্থান বিশ্লেষণের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



