ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য প্রণীত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা মোট পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় বা রেয়াত পাবেন। তবে নির্ধারিত এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে এই বিশেষ সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।
গত ২ আগস্ট (রোববার) এনবিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দেশের রাজস্ব সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং করদাতাদের সময়ানুবর্তিতাকে মূল্যায়ন করতে এই নতুন কর প্রণোদনা আইনের বিস্তারিত ধারা ও সময়সীমা তুলে ধরা হয়।
প্রণোদনা ও সময়সীমার বিস্তারিত বিবরণ নতুন আইনি বিধান অনুযায়ী, করদাতারা তাদের প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ হারে কর ছাড় পাবেন, যার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, কোনো করদাতার পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ যদি ২৫ হাজার টাকার বেশিও হয়, তবুও তিনি সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকাই রেয়াত হিসেবে পাবেন।
তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবশ্যই রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি কোনো করদাতা রিটার্ন জমা দেন, তবে তিনি কোনো প্রকার জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই স্বাভাবিক নিয়মে রিটার্ন দিতে পারবেন, কিন্তু কোনো ধরনের কর ছাড় কিংবা আর্থিক প্রণোদনা পাবেন না।
বিলম্বে রিটার্ন দাখিলে জরিমানার বিধান নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে এনবিআর পর্যায়ক্রমিক জরিমানার একটি কাঠামো তৈরি করেছে:
-
১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ: এই সময়ের মধ্যে কেউ রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকার মধ্যে যেটি অঙ্কে বড় হবে, সেই পরিমাণ টাকা জরিমানা বা অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।
-
১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন: এই প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত কর হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মনে করছে, নির্ধারিত সময়ের শুরুর দিকেই রিটার্ন দাখিলে এই ধরনের বড় অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ফলে করদাতারা শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়িয়ে চলবেন। এতে করে দেশে কর পরিপালনের একটি সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এবং আয়কর প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে।
ঘরে বসেই ই-রিটার্ন ও ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা করদাতাদের রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজতর করতে এনবিআর গত ২২ জুলাই থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য উন্নত ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে। করদাতারা এখন দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এনবিআরের নির্দিষ্ট পোর্টালে (www.etaxnbr.gov.bd) গিয়ে সহজেই তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী জমা দিতে পারবেন।
অনলাইনে আয়কর পরিশোধের প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করতে আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করা হয়েছে। করদাতারা তাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং (ব্যাংক ট্রান্সফার), ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড কিংবা দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন—বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে অত্যন্ত নিরাপদ উপায়ে করের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। অনলাইনে সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে রিটার্ন সাবমিট করার সাথে সাথেই করদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (Acknowledgement Receipt) এবং আয়কর সনদ (Tax Certificate) ডাউনলোড ও সংগ্রহ করতে পারবেন।
সহায়তার জন্য কল সেন্টার ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে করদাতারা যেন কোনো ধরনের কারিগরি বা আইনি জটিলতায় না পড়েন, সেজন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করেছে এনবিআর। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য একটি ডেডিকেটেড কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত অফিস চলাকালীন সময়ে যে কেউ ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে কল করে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিতে পারবেন। এ ছাড়া অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমের সাহায্যেও করদাতাদের সার্বক্ষণিক তথ্য ও সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এনবিআরের পক্ষ থেকে সকল যোগ্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাকে শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের এই রাষ্ট্রীয় সুযোগ গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



