ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানের একটি চালান জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের কার্গো হোল্ডে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই ফ্লাইটটিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এভসেক (এভিয়েশন সিকিউরিটি) এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকাগামী বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে বিমানের কার্গো হোল্ডের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম, যা প্রায় ১৯ কেজির সমপরিমাণ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদ্ধার করা স্বর্ণগুলো জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একটি বিশেষ দল দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির মাধ্যমে এই অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হন যে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে একটি বড় স্বর্ণের চালান আনা হচ্ছে। পরে এভসেক সদস্যদের সহযোগিতায় বিমানের কার্গো হোল্ডে অভিযান চালিয়ে সফলভাবে পুরো চালানটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তিনি বলেন, উদ্ধার করা স্বর্ণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে স্বর্ণের চালানটি বিমানের কার্গো হোল্ডে পৌঁছালো, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও এত বড় একটি চালান উদ্ধার করা হয়েছে, তবুও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চোরাচালানকারীরা প্রায়ই অত্যন্ত কৌশলী পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং সরাসরি স্বর্ণের সঙ্গে কাউকে যুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে উদ্ধার হওয়া আলামত, ফ্লাইটের তথ্য, কার্গো পরিচালনার বিভিন্ন নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বিমানবন্দর সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কিছু ফ্লাইটকে কেন্দ্র করে চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ফ্লাইটগুলোতে নিয়মিত বিশেষ তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের একটি ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। এরপরও আবার একই ধরনের বড় চালান উদ্ধার হওয়ায় স্বর্ণ চোরাচালান রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে যৌথ তদন্ত অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে আগত ফ্লাইটগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের চোরাচালানের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



