ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোভিত্তিক শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক ‘কাস্টম হাউস আইসিডি, চট্টগ্রাম’ ১ আগস্ট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এদিন থেকে নতুন ৩০৬ অফিস কোডের আওতায় ৬৫টি আমদানিপণ্যের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কার্যক্রম সহজীকরণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেসরকারি অফডকগামী ৬৫টি আমদানিপণ্য এবং শতভাগ রপ্তানি পণ্যের দায়িত্ব নতুন কাস্টম হাউস আইসিডি, চট্টগ্রামের ওপর ন্যস্ত করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে রাজস্ব আদায়ে গতি আসবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, ১ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অফডকগামী ৬৫টি আমদানিপণ্যের বিল অব এন্ট্রি বাধ্যতামূলকভাবে ৩০৬ অফিস কোডে দাখিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের শতভাগ রপ্তানি কার্যক্রম এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শতভাগ আমদানি-রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নও এখন এই কমিশনারেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের একটি বড় অংশ পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় এল। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অফডকভিত্তিক কাস্টমস কার্যক্রম আরও বিশেষায়িত ও গতিশীল হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইসিডি কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর এই হাউসের কমিশনার হিসেবে আবুল বাসার মো. শফিকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে আগ্রাবাদের বিএসটিআই ভবনের সপ্তম তলায় অস্থায়ী কার্যালয় থেকে কমিশনারেটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি কমিশনারেটের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, ৩১ জুলাই থেকে কাস্টমস হাউস, আইসিডি, চট্টগ্রামের অফিস কোড ৩০৬ ছাড়া অন্য কোনো অফিস কোডে নির্ধারিত ৬৫টি আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি গ্রহণ করা হবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় জেটি থেকে পণ্য খালাসের মূল প্রক্রিয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগে যেসব চালানের ক্ষেত্রে কাস্টম হাউসের স্টাফ শাখা (৩০১) থেকে নোটিং সম্পন্ন করে পণ্য খালাস নেওয়া হতো, এখন সেসব কাজ আইসিডি কমিশনারেটের স্টাফ শাখা থেকেই করা হচ্ছে। তবে স্ক্যানিং ও গেট যাচাইয়ের মতো কার্যক্রম আগের মতোই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিচালনা করবেন। এছাড়া শতভাগ কায়িক পরীক্ষা ও আনস্টাফিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন চট্টগ্রাম আইসিডি কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানান, কার্যক্রম আগেই শুরু হলেও কিছু প্রাথমিক সমস্যা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ১ আগস্ট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম চালু হয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



