ছবি: সংগৃহীত
ভ্যাট কমিশনারেট পুনর্গঠনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর এবার ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) নতুন অধিক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সেগুলোর বিআইএন তথ্য হালনাগাদ করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সংস্থাটি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। এনবিআর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার সাথে সাথে পুরোনো বিআইএন নম্বরগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। ফলে ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন বিআইএন ব্যবহার ব্যতিপূর্বে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস সংক্রান্ত কোনো প্রকার কার্যক্রম আর সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।
এনবিআর-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, দেশের পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে আধুনিক, গতিশীল এবং অধিকতর টেকসই করার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান ভ্যাট কমিশনারেটগুলোর প্রশাসনিক সীমানা ও অধিক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকটি নতুন কমিশনারেটও তৈরি করা হয়েছে। মূলত করজাল প্রসারিত করা, সরকারের রাজস্ব আহরণের গতি বৃদ্ধি করা এবং সর্বোপরি সাধারণ করদাতাদের সেবার মান বহুলাংশে উন্নত করাই এই ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কারের প্রধান উদ্দেশ্য। এই অধিক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণের ফলে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত ভ্যাট কমিশনারেট ও ডিভিশনে পরিবর্তন এসেছে, যার দরুন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তাদের বিআইএন নম্বরও পরিবর্তিত কাস্টমস ও ভ্যাট অঞ্চলের অধীনে স্থানান্তরিত হয়েছে।
বিআইএন স্থানান্তরের কারিগরি ব্যাখ্যা দিয়ে রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, অধিক্ষেত্র পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল বিআইএন নম্বর সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়নি। মূলত বিআইএন নম্বরের শেষ ৪টি ডিজিট বা সংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে। এই শেষের চারটি ডিজিট মূলত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকারী ভ্যাট কমিশনারেট ও ভ্যাট ডিভিশনকে নির্দেশ করে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শেষ চার সংখ্যা ব্যতীত বিআইএন-এর মূল কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক তথ্যাদি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকছে।
প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের কারণে যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের বহির্বাণিজ্য কিংবা ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে হুট করে কোনো জটিলতা না সৃষ্টি হয়, সে জন্য এনবিআর বিশেষ মধ্যবর্তী সময় প্রদান করছে। কাস্টমসের অটোমেটেড সিস্টেম 'অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড' (ASYCUDA World)-এ বর্তমানে পুরোনো এবং নতুন—উভয় ধরনের বিআইএন-ই সাময়িক সময়ের জন্য সক্রিয় রাখা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা বর্তমানে পুরোনো বিআইএন নম্বর ব্যবহার করেই খোলা এলসি (ঋণপত্র), বিল অব এন্ট্রি, কাস্টমস ডিক্লারেশনসহ অন্যান্য চলমান শুল্কায়ন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারছেন।
তবে কাস্টমস অটোমেশনের এই দুইমুখী সুবিধা স্থায়ী হবে না। এনবিআর কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই সুবিধা কেবল ৩০ নভেম্বর পর্যন্তই বহাল থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো—ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এই সময়সীমার মধ্যে পুরোনো বিআইএন-সংক্রান্ত সমস্ত বকেয়া কাস্টমস নথি ও প্রশাসনিক কাজ নিষ্পত্তি করে ফেলতে পারে এবং দ্রুত নতুন বিআইএন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কাস্টমস সার্ভার থেকে পুরোনো সমস্ত বিআইএন স্থায়ীভাবে ব্লক বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। ফলে যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতি বা জটিলতা এড়াতে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নতুন বিআইএন হালনাগাদ এবং ব্যবহারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ জোর তাগিদ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



